বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিএরসি) দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম ১০৪ টাকা ৬১ পয়সা থেকে কমিয়ে ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করেছে। এই হ্রাসের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক রুটে জেট ফুয়েলের দামও কমে ৬৮ সেন্ট থেকে ৬২ সেন্ট করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী এয়ারলাইনগুলো এই পরিবর্তন থেকে সরাসরি উপকৃত হবে, কারণ জ্বালানি খরচ তাদের মোট ব্যয়ের বড় অংশ গঠন করে।
নতুন মূল্যসূচি রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে, ফলে আগামীকাল থেকে সকল এয়ারলাইন ও জ্বালানি সরবরাহকারী নতুন দামে লেনদেন শুরু করবে। এই সময়সীমা অনুসরণ করে বাজারে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বিএরসি প্রথমবারের মতো মে ২০২৫-এ জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণ করে এবং তখনই জানিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা অনুযায়ী মাসিক সমন্বয় করা হবে। এই নীতি অনুসরণ করে আজকের হ্রাস করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের দায়িত্বে ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই ক্ষমতা বিএরসির কাছে হস্তান্তর করে, যাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারে।
বিএরসি ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েল দামের নির্ধারণে গণশুনানি পরিচালনা করে, যেখানে শিল্পের প্রতিনিধিদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট ৪,৭১,৫৩৫ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল বিক্রি হয়। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ এই পরিমাণ ৫,৪১,৩৩৩ মেট্রিক টনে বৃদ্ধি পায়, যা চাহিদার ধারাবাহিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
জেট ফুয়েলের দামের হ্রাস এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয় কমাবে, বিশেষ করে যেসব সংস্থা ঘন ঘন আন্তর্জাতিক রুটে সেবা প্রদান করে। জ্বালানি খরচের এই সাশ্রয় টিকিটের মূল্যে হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যদিও তা বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
বিপিসি, যা জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্রতিষ্ঠান, তার বিক্রয় পরিমাণের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজস্বেও ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করা যায়। তবে দামের হ্রাসের ফলে একক লিটারের আয় কমে, তাই মোট আয় বৃদ্ধি মূলত বিক্রয় পরিমাণের বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার নীতি ভবিষ্যতে আরও মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে। তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক মূল্যের ওঠানামা সরাসরি দেশের জেট ফুয়েল মূল্যে প্রভাব ফেলবে, যা এয়ারলাইনগুলোর আর্থিক পরিকল্পনায় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংক্ষেপে, বিএরসির এই সাম্প্রতিক দামের সমন্বয় জেট ফুয়েল বাজারে স্বল্পমেয়াদে সাশ্রয় এনে দেবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওঠানামা মূল্যের স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে। এয়ারলাইন ও জ্বালানি সরবরাহকারী উভয়েরই এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।



