22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা তেলের বিক্রয় অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা তেলের বিক্রয় অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা

ওয়াশিংটন, মিয়ামি – যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বুধবার ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা থেকে রপ্তানিকৃত কাঁচা তেল মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বিক্রয় কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চালু থাকবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভেনেজুয়েলার অস্থায়ী শাসনকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের তেল যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাইট মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত গল্ডম্যান স্যাকস এনার্জি ইভেন্টে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সংরক্ষিত ভেনেজুয়েলান তেল বাজারজাত করবে এবং পরে উৎপাদিত তেলের বিক্রয়ও একইভাবে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা তেলের প্রবাহ পুনরায় চালু করে আমেরিকান রিফাইনারিগুলোর কাছে সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী টুইটে তিনি জানিয়েছিলেন যে, ভেনেজুয়েলার অস্থায়ী সরকার ৩০‑৫০ মিলিয়ন ব্যারেল নিষেধাজ্ঞা সাপেক্ষে তেল যুক্তরাষ্ট্রকে দেবে এবং এই তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত আয় তার ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে থাকবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য তেলের আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে সরাসরি তার হাতে রাখার ইঙ্গিত দেয়।

এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলান তেলের সরবরাহ পুনরায় চালু করা, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের রিফাইনারিগুলো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পায় এবং উভয় দেশই আর্থিকভাবে উপকৃত হয়। তেলের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ ‘শেপার্ড অ্যাকাউন্ট’ নামে পরিচিত বিশেষ হিসাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একই দিনে উল্লেখ করেন যে, ভেনেজুয়েলার নিষিদ্ধ তেলের উপর আরোপিত অবরোধ বিশ্বব্যাপী কার্যকর। তিনি এক্স-এ পোস্টে লিখে বলেন, এই অবরোধের ফলে কোনো জাহাজই নিরাপদে তেল পরিবহন করতে পারবে না।

হেগসেথের মতে, ক্যারিবীয় সাগর ও উত্তর আটলান্টিকের আন্তর্জাতিক জলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইতিমধ্যে কয়েকটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। এই জাহাজগুলোকে নিষিদ্ধ তেল বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের ধরা পড়া অবরোধের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

বিশেষভাবে, মার্কিন নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলে ‘এম/টি মারিনেরা’ নামের একটি নিষিদ্ধ জাহাজকে আটক করেছে। এই জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফরোয়ার্ডে ট্র্যাক করা হচ্ছে।

এইসব কার্যক্রম ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ও তার অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর চাপ সৃষ্টি করা। তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেশের রাজস্ব হ্রাস করে সরকারকে আর্থিক সংকটে ধাক্কা দেওয়া এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তবে ভেনেজুয়েলার সরকার তেল বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক সংকট বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্পের জন্য এই ব্যবস্থা অতিরিক্ত কাঁচামাল সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে, যা রিফাইনারিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং আমেরিকান বাজারে সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপকে কৌশলগত বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার এখনও এই সিদ্ধান্তের প্রতি কীভাবে সাড়া দেবে তা স্পষ্ট নয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারিতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নীতি ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি নীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে তেল অবরোধের পরিধি বাড়বে কিনা, তা পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলা তেলের বিক্রয় ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণের নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন, যা তেল বাজারে সরবরাহ চেইন পুনর্গঠন এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত। এই নীতি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং আন্তর্জাতিক জলে অবরোধের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ বন্ধ রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments