অস্ট্রোনমি সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক সমাবেশে জানানো হয়েছে যে, বিশাল লাল সুপারগায়া বেটেলগিউসের পার্শ্ববর্তী ছোট নক্ষত্র তার গ্যাসীয় স্তরে একটি স্পষ্ট তরঙ্গের চিহ্ন রেখে গেছে। এই পর্যবেক্ষণটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের আট বছরব্যাপী ডেটা এবং পৃথিবীর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রেকর্ডের সমন্বয়ে করা হয়েছে।
বেটেলগিউস, ওরিয়নের কাঁধে অবস্থান করা এই বিশাল নক্ষত্রের আলোর তীব্রতা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। শতাব্দীজুড়ে করা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, এর উজ্জ্বলতা দুইটি স্বতন্ত্র চক্রে ওঠানামা করে। প্রথমটি প্রায় ৪০০ দিনের, আর দ্বিতীয়টি প্রায় ২১০০ দিনের।
সংক্ষিপ্ত চক্রটি নক্ষত্রের স্বাভাবিক দোলনের ফলে ঘটে, যা তার পৃষ্ঠের গ্যাসের সংকোচন ও প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত। তবে দীর্ঘ চক্রের মূল কারণ বহু বছর আগে পর্যন্ত অজানা রয়ে গিয়েছিল।
২০২৪ সালে একটি গবেষণা দল প্রস্তাব করে যে, বেটেলগিউসের চারপাশে সূর্যের সমান ভরের একটি ছোট নক্ষত্র রয়েছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদী উজ্জ্বলতা পরিবর্তনের মূল কারণ হতে পারে। পরবর্তী বছর, ২০২৫-এ, একই ধারণা সমর্থন করে একটি অস্পষ্ট ছবি প্রকাশিত হয়।
এই দুইটি ফলাফল সত্ত্বেও, বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ে একমত হওয়া কঠিন ছিল। তাই নতুন বিশ্লেষণে নক্ষত্রের গ্যাসীয় পরিবেশে সৃষ্ট তরঙ্গের উপস্থিতি অনুসন্ধান করা হয়।
সঙ্গীর কক্ষপথের দূরত্ব বেটেলগিউসের কেন্দ্র থেকে প্রায় চার গুণ পৃথিবী-সূর্য দূরত্বের সমান, যা তার বিশাল বায়ুমণ্ডলের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থানকে বিবেচনা করে, ছোট নক্ষত্রের গ্যাসের মধ্য দিয়ে চলার সময় একটি ধীরগতি তরঙ্গ উৎপন্ন হওয়া স্বাভাবিক।
বৃহৎ নক্ষত্রের পৃষ্ঠের আকার এত বিশাল যে, যদি আমাদের সূর্যের পরিবর্তে বেটেলগিউস থাকত, তবে জুপিটার তার পৃষ্ঠে নিমজ্জিত হয়ে থাকত। তাই সঙ্গীর অবস্থানকে ‘বায়ুমণ্ডলীয়’ বলা যায়।
গবেষক দল হাবল টেলিস্কোপের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ ডেটা এবং পৃথিবীর বিভিন্ন টেলিস্কোপের রেকর্ড একত্রিত করে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির চিহ্ন খুঁজে পায়।
এই উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, যা গ্যাসের ঘনত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সঙ্গীর গতি দ্বারা সৃষ্ট তরঙ্গের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ফলে, ছোট নক্ষত্রের উপস্থিতি এবং তার গ্যাসীয় পরিবেশে সৃষ্ট প্রভাবের ধারণা দৃঢ় হয়।
এই ফলাফলটি বেটেলগিউসের দীর্ঘমেয়াদী উজ্জ্বলতা পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে, নক্ষত্রের গ্যাসীয় স্তরে সৃষ্ট তরঙ্গের পর্যবেক্ষণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিক উন্মোচন করে।
বেটেলগিউসের এই নতুন দিকটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মহাকাশের বিশাল নক্ষত্রগুলিও পার্শ্ববর্তী ছোট বস্তুগুলোর সঙ্গে জটিল পারস্পরিক ক্রিয়া করে। ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ এবং মডেলিংয়ের মাধ্যমে এই পারস্পরিক ক্রিয়ার প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
পাঠকরা যদি এই ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সম্পর্কে আরও জানতে চান, তবে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী সংস্থার আপডেট অনুসরণ করা উপকারী হবে।



