প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় গণভোটের তাৎপর্য তুলে ধরেন। সভায় কৃষি বিভাগের প্রায় সতেরো হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মী অংশগ্রহণ করেন এবং রীয়াজের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশের ভবিষ্যৎ রূপান্তরে গণভোটের ভূমিকা।
এই ভার্চুয়াল সেশনের আয়োজন কৃষি বিভাগের প্রেস উইং করেছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে রীয়াজ উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা ফ্যাসিবাদী পথে ফিরে না যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং এই সুযোগের গুরুত্ব অপরিসীম।
রীয়াজের মতে, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে আরেকটি জাতীয় গণভোটের সম্ভাবনা কম। তাই এই মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকল স্তরের কর্মকর্তার সমন্বয়ে একসঙ্গে কাজ করা জরুরি, যাতে গণভোটের ফলাফলকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশাল জনবল, বিশেষত উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে কর্মীসংখ্যা, দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রীয়াজ এ বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এই স্তরের কর্মকর্তারা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে গণভোটের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং গত ষোল বছরের সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। রীয়াজ উল্লেখ করেন, তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজকের সরকারকে এমন একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের শাসনব্যবস্থা পূর্বের অনিশ্চিত অবস্থায় ফিরে না যায়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করে তিনি কর্মকর্তাদের গণভোটকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করার আহ্বান জানান।
অধিকাংশ মানুষকে গণভোটের মৌলিক ধারণা ‘হ্যাঁ-না’ ভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা রীয়াজের প্রধান সুপারিশ। তিনি বলেন, ভোটের প্রশ্নকে সরল করে উপস্থাপন করলে জনগণ দ্রুত ও সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, ফলে ভোটের ফলাফলকে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হবে।
গণভোটের ফলস্বরূপ কী কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে ব্যাখ্যা করা রীয়াজের আরেকটি নির্দেশনা। তিনি কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন, ভোটের পরবর্তী ধাপগুলো, নীতি পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সম্ভাব্য রূপান্তর সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, যাতে কোনো ধরণের বিভ্রান্তি না থাকে।
সেশনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও উপস্থিত ছিলেন। মিয়ানের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ভার্চুয়ালভাবে অংশগ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সভাকে সরকারের গণভোটের প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। রীয়াজের বক্তব্যের ভিত্তিতে কৃষি বিভাগের কর্মীরা এখন থেকে ভোটের বিষয়বস্তু সহজে ব্যাখ্যা করে, জনগণের মধ্যে সমর্থন গড়ে তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন।
গণভোটের ফলাফল যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং গণতান্ত্রিক নীতির পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের ফলে বর্তমান কাঠামো বজায় থাকবে, তবে তা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা পুনরায় উত্থান ঘটাতে পারে। এই দ্বিমুখী সম্ভাবনা সরকারকে সতর্কতা ও প্রস্তুতির সঙ্গে ভোটের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে বাধ্য করবে।
সারসংক্ষেপে, রীয়াজের বক্তব্য কৃষি বিভাগের বৃহৎ জনশক্তিকে ভোটের প্রচার ও ব্যাখ্যা কাজে যুক্ত করার একটি কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এই গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে একমাত্র সুযোগ, এবং সকল স্তরের কর্মকর্তার সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার সম্ভব নয়।



