উক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেন্স্কি বুধবার প্রেসে জানান, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো থেকে তার দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি এখনও পাননি। তিনি বলেন, “আমি এই প্রশ্নটি সকল অংশীদারের কাছে উত্থাপন করেছি, তবে এখনো কোনো পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট উত্তর পাইনি।”
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স গতকাল একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, যেখানে উক্রেনের ভূখণ্ডে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সৈন্যবাহিনী পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা গ্যারান্টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত আলোচনায়, যেখানে প্রায় ত্রিশটি দেশ ‘কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং’ গঠন করেছিল, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কীর্স স্টারমার উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স উক্রেনে সামরিক হাব স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যৎ আক্রমণ রোধে সহায়ক হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও উল্লেখ করেন, সম্ভাব্যভাবে হাজারো সৈন্য পাঠানো হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের ব্যাপারে স্পষ্টতা না থাকায়, প্যারিস আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি স্বাক্ষর করেনি। মিত্র দেশগুলো প্রস্তাব করেছে, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি রক্ষার তত্ত্বাবধানের নেতৃত্ব নেবে, তবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে কিছু ভূখণ্ড ছাড়ার প্রস্তাব এখনও আলোচনার বিষয়।
রাশিয়া এই ঘোষণার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করেন এবং বর্তমানে উক্রেনের প্রায় ২০% ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্টারমার এই যৌথ ঘোষণাকে “উক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ” বলে বর্ণনা করেন। তিনি যোগ করেন, এই চুক্তি একটি আইনি কাঠামো তৈরি করবে, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ, ফরাসি ও অন্যান্য অংশীদার বাহিনী উক্রেনের মাটিতে কাজ করতে পারবে, আকাশ ও সমুদ্র রক্ষা করবে এবং ভবিষ্যৎ সামরিক পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
জেলেন্স্কি পূর্বে এই চুক্তিকে “একটি বিশাল অগ্রগতি” বলে প্রশংসা করেন। তবে পরের দিন তিনি আবারও আশাব্যঞ্জক না হয়ে মন্তব্য করেন, তিনি বলেন, “আমি রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি এবং অংশীদারদের প্রস্তুতি দেখছি, এবং তারা আমাদেরকে শক্তিশালী সমর্থন দিতে প্রস্তুত।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, নিরাপত্তা গ্যারান্টি সম্পর্কে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
উক্তি ও ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। উক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট সামরিক উপস্থিতি, ত্রৈমাসিক তত্ত্বাবধান এবং ভূখণ্ডীয় সমঝোতা কীভাবে সমাধান হবে, তা পরবর্তী আলোচনার মূল বিষয় হবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি স্পষ্ট নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি না দেওয়া হয়, তবে উক্রেনের যুদ্ধের দীর্ঘায়ু এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার জটিলতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সামরিক হাবের পরিকল্পনা উভয় দেশের জন্য কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা রাশিয়ার সম্ভাব্য পুনরায় আক্রমণ রোধে সহায়তা করবে।
এই পরিস্থিতিতে, উক্রেনের সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিশ্চিত করার জন্য চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, আর মিত্র দেশগুলোকে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্যারিসের পরবর্তী আলোচনার ফলাফল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, তা উভয়ই উক্রেনের নিরাপত্তা নীতি ও রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



