ঢাকা শহরের উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বীর রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কাজি নাজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেলের কাছাকাছি গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধের সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তি, সাফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ, গুলিবিদ্ধের ফলে আহত হন।
মুসাব্বীর পূর্বে ঢাকা সিটি নর্থ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্বেচ্ছাসেবক শাখার সদস্য ছিলেন। তার রাজনৈতিক প্রোফাইলের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।
সন্ধ্যা ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে অজানা গোষ্ঠী গুলি চালিয়ে মুসাব্বীর ও মাসুদকে লক্ষ্যবস্তু করে গুলি করে। গুলি চালানোর পর গুলিবিদ্ধদের কাছ থেকে দ্রুত সাড়া পেয়ে মুসাব্বীরকে প্যান্থাপথের বি.আর.বি. হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।
বিএরবি হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা মুসাব্বীরের আঘাতের গুরুতরতা নির্ণয় করে, এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে মাসুদকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
মাসুদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে তার সহকর্মী মোহাম্মদ জাভেদ সহায়তা করেন। জাভেদ জানান, মাসুদ তেজগাঁও থানা ভ্যান কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি কেরানিগঞ্জে বসবাস করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার ফজলুল করিম গুলিবিদ্ধ ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, গুলি চালানো গোষ্ঠী গুলি চালানোর সময় কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য প্রকাশ করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। গুলি চালানোর অস্ত্র, গুলি এবং গুলিবিদ্ধদের পোশাকের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি সিআরভি ফুটেজও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মুসাব্বীরের মৃত্যুতে বিস্মিত ও শোকাহত হয়ে প্রায় দুইশো জনসংখ্যা, যার মধ্যে বিএনপি নেতা ও কর্মী অন্তর্ভুক্ত, স্টার হোটেলের সামনে প্রতিবাদে অংশ নেন। তারা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে এবং হাসপাতালের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে রাখেন।
প্রতিবাদকারীরা মুসাব্বীরের মৃত্যুর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হওয়া এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে থাকে। পুলিশ এই সময়ে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত ট্যাক্সি ও গার্ড ব্যবহার করে এবং রাস্তায় গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ গুলিবিদ্ধদের সনাক্তকরণে নজরদারি ক্যামেরা রেকর্ড এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে। মামলাটি তেজগাঁও থানা থেকে তেজগাঁও জেলায় স্থানান্তরিত হবে এবং আদালতে দায়েরের পর শিকারের পরিবারকে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী আদালত প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



