বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা আইসিসি বুধবার প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল ২০২৬ সালের উইমেন’স টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি ও নামিবিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই ম্যাচগুলো ১৮ জানুয়ারি উদ্বোধনী দিনে শুরু হবে এবং পুরো টুর্নামেন্টের মূল লড়াই জানুয়ারি শেষের দিকে অবধি চলবে।
বাছাই পর্যায়ে মোট দশটি দলকে দুইটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে; বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত, যেখানে গ্রুপ ‘বি’ তে রয়েছে জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং নেপাল। গ্রুপ ‘এ’ তে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি ও নামিবিয়া রয়েছে।
ম্যাচের আয়োজক স্থল হিসেবে ব্যবহার হবে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং আপার মুলপানি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রতিটি ম্যাচের সময়সূচি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় প্রথম গেম এবং দুপুর ১টায় দ্বিতীয় গেম দিয়ে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্বোধনী দিনে, ১৮ জানুয়ারি, চারটি ম্যাচ একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। এদিন আপার মুলপানি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র, যা টুর্নামেন্টের সূচনা চিহ্নিত করবে। পরের দিন, ১৯ জানুয়ারি, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ পাপুয়া নিউ গিনির মুখোমুখি হবে।
২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে নামিবিয়ার সঙ্গে লড়াই করবে এবং একদিন পর, ২৩ জানুয়ারি, আপার মুলপানি স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ হবে। এই ধারাবাহিকতা দলকে গ্রুপে শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ দেবে।
বাছাই পর্যায়ের আগে, ১৪ জানুয়ারি থেকে দশটি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটি হবে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে, যা সকালবেলা শুরু হবে। দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটি ১৬ জানুয়ারি দুপুরে আপার মুলপানি স্টেডিয়ামে থাইল্যান্ডের সঙ্গে নির্ধারিত হয়েছে।
বাছাই পর্যায়ের শেষে, প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ তিনটি দল সুপার সিক্স রাউন্ডে অগ্রসর হবে। সুপার সিক্স রাউন্ডের সূচনা হবে ২৮ জানুয়ারি এবং এটি ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই রাউন্ডের শেষে শীর্ষ চারটি দল মূল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে, যা জুন-জুলাই ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে।
এই টুর্নামেন্টের মূল পর্যায়ে মোট চারটি ভিন্ন দেশে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে। সুপার সিক্স রাউন্ডের পর, শীর্ষ চারটি দল বিশ্বকাপের মূল পর্যায়ে অংশগ্রহণের অধিকার অর্জন করবে।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য যে, এই বাছাই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো ১২টি দল অংশগ্রহণ করবে, যা পূর্বের দশটি দলের তুলনায় একটি বড় সম্প্রসারণ। গত বছরের বিশ্বকাপে মোট দশটি দল অংশগ্রহণ করেছিল, যেখানে নিউ জিল্যান্ড ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল।
বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা প্রস্তুতি ম্যাচে অর্জিত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বাছাই পর্যায়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্য রেখেছেন। দলটি গ্রুপে শীর্ষে পৌঁছিয়ে সুপার সিক্স রাউন্ডে অগ্রসর হয়ে মূল বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করবে।
সামগ্রিকভাবে, বাছাই পর্যায়ের সূচি ও গ্রুপিং স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে এবং দলগুলোকে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেবে। বাংলাদেশি মহিলা ক্রিকেটের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের জন্য নতুন আশা জাগিয়ে তুলবে।



