20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচিফ অ্যাডভাইজার ইউনুসের মতে সব দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচার করবে, রেফারেন্ডামকে...

চিফ অ্যাডভাইজার ইউনুসের মতে সব দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচার করবে, রেফারেন্ডামকে ঐতিহাসিক বলে ঘোষণা

ঢাকা – চিফ অ্যাডভাইজার ড. মুহাম্মদ ইউনুস আজ একটি বৈঠকে জানিয়েছেন যে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই চার্টারকে সমর্থন করেছে এবং রেফারেন্ডাম‑এ ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচার করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো দল ‘না’ ভোটের দিকে ঝুঁকবে না।

বৈঠকটি ইউরোপীয় বহিরাগত কাজের সেবা (EEAS) এর এশিয়া‑প্যাসিফিকের অধীনস্থ অ্যাক্টিং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পাম্পালনি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনুসের সঙ্গে লুৎফে সিদ্দিকি, যিনি চিফ অ্যাডভাইজারের বিশেষ প্রতিনিধি, লামিয়া মোরশেদ, এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সেক্রেটারি, এবং মাইকেল মিলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে দূত, উপস্থিত ছিলেন।

ইউনুস উল্লেখ করেন, রেফারেন্ডামটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে স্বৈরশাসনের ছায়ায় দেশের নাগরিকরা স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত ভোটের সুযোগ পাননি; এবার তারা উৎসবের মতো ভোট দেবে।

রেফারেন্ডামের মূল প্রশ্ন হল জুলাই চার্টারকে অনুমোদন করা, যা দেশের রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান দলগুলো সম্মত হয়েছে। এই চার্টারটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধার, নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ সীমিত করা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার দিকে মনোযোগ দেয়।

ইউনুসের বক্তব্যের পর, উপস্থিত কর্মকর্তারা চার্টারের মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং রেফারেন্ডামের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপগুলো নির্ধারণ করেন। পাম্পালনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং রেফারেন্ডামকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া হিসেবে নিশ্চিত করতে চায়।

দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি, রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়, তবে জুলাই চার্টার অনুযায়ী সংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার দ্রুত কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের সম্ভাবনা কম থাকলেও, কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অগ্রসর। ভোটার তালিকা আপডেট, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং ভোটার শিক্ষার প্রচার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলোও রেফারেন্ডাম পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (ISPR) জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং জেএফ‑১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তথ্যটি রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের সময়ে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করবে।

পাকিস্তানের এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা দেশের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। তবে, বর্তমান সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উভয়ই সমান গুরুত্ব পাবে।

ইউনুসের মতে, রেফারেন্ডাম এবং নির্বাচনের সফলতা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকল রাজনৈতিক শক্তি একসাথে কাজ করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে।

বৈঠকের শেষে, উপস্থিত সকল পক্ষ রেফারেন্ডামের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এ কথা সবাই স্বীকার করেছে।

এই রেফারেন্ডাম এবং নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা নীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে। এখন পর্যন্ত সব প্রধান দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একমত, এবং রেফারেন্ডামকে দেশের ইতিহাসে একটি নতুন সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments