কাঠমান্ডু, নেপাল – আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরের টি২০ নারী বিশ্বকাপের স্থান নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ টিগারেস ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। এই টুর্নামেন্টে মোট দশটি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং শেষ চারটি দলই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আয়োজিত মূল টুর্নামেন্টে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
কোয়ালিফায়ারটি কাঠমান্ডু শহরে ১৪ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচগুলো ট্রিবুভান ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং আপার মালপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ম্যাচের দিনেই টিগারেসের সূচনা হবে, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দলকে আপার মালপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশের দল গ্রুপ এ-তে রয়েছে, যেখানে আইরল্যান্ড, নামিবিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দলও অংশ নেবে। গ্রুপ বি-তে নেপাল (হোস্ট), নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে রয়েছে। প্রতিটি দল গ্রুপের সব দলের সঙ্গে একবার করে খেলবে, এবং শীর্ষ তিনটি দল সুপার ৬ রাউন্ডে অগ্রসর হবে।
সুপার ৬ রাউন্ডে ছয়টি দল রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে একে অপরের সঙ্গে খেলবে। এই পর্যায়ের শীর্ষ চারটি দলই জুন ও জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত মূল টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অধিকার অর্জন করবে। টিগারেসের প্রথম ম্যাচের পরপরই তারা পাপুয়া নিউ গিনির, নামিবিয়ার এবং আইরল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচগুলো খেলবে।
ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯ টায় এবং বিকেল ১ টায় দু’ধরনের সেশন থাকবে। টিগারেসের প্রথম ম্যাচ সকাল ৯ টায় হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দলকে তারা চ্যালেঞ্জ করবে। একই দিনে বিকেলে আইরল্যান্ড ও পাপুয়া নিউ গিনির মধ্যে একটি ম্যাচ নির্ধারিত।
পরবর্তী দিনগুলোতে টিগারেসের গ্রুপ ম্যাচের সময়সূচি নিম্নরূপ: ২০ জানুয়ারি পাপুয়া নিউ গিনির সঙ্গে, ২২ জানুয়ারি নামিবিয়ার সঙ্গে এবং ২৪ জানুয়ারি আইরল্যান্ডের সঙ্গে। সব ম্যাচই আপার মালপানি বা ট্রিবুভান ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
কোচিং স্টাফ টিগারেসের প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে টুর্নামেন্টের আগে উষ্ণতা ম্যাচের ব্যবস্থা করেছে। উষ্ণতা ম্যাচে দল নেদারল্যান্ডস এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যাতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতা অনুভব করতে পারে।
উষ্ণতা ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী, টিগারেসের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ হবে ১৪ জানুয়ারি, যেখানে তারা নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে খেলবে। এরপরের দিন থাইল্যান্ডের সঙ্গে একটি ম্যাচ নির্ধারিত, যা দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত করবে।
কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টের মোট ৪৫টি ম্যাচ হবে, এবং প্রতিটি দলকে গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি জয় অর্জন করতে হবে সুপার ৬ রাউন্ডে অগ্রসর হতে। টিগারেসের লক্ষ্য হবে গ্রুপে শীর্ষ তিন স্থানে পৌঁছিয়ে সুপার ৬-এ প্রবেশ করা।
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড টিগারেসের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, এই টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স দেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। কোচিং স্টাফের মতে, দলকে শৃঙ্খলা, ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং-ব্যাটিংয়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।
কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এই কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টের মাধ্যমে টিগারেসের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক স্তরে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে। দলটি যদি গ্রুপে শীর্ষ তিনে শেষ হয়, তবে তারা সুপার ৬-এ প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং মূল বিশ্বকাপের পথে অগ্রসর হবে।
টিগারেসের ভক্তরা এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য উৎসাহের বার্তা পাঠাচ্ছেন এবং আশা করছেন যে দলটি শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করবে। টুর্নামেন্টের ফলাফল নির্ভর করবে প্রতিটি ম্যাচের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং মাঠে খেলোয়াড়দের দক্ষতার উপর।



