27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধযশোরে দুর্নীতি দমন কমিশন ঘুষের টাকা সহ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে হাতে হাতে...

যশোরে দুর্নীতি দমন কমিশন ঘুষের টাকা সহ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে হাতে হাতে গ্রেপ্তার

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাতে হাতে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারটি বুধবার বিকালে ঘটেছে এবং এতে এক লাখ বিশ হাজার টাকা ঘুষের টাকা পাওয়া গেছে। দুদক এই পদক্ষেপটি ঘুষের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছে।

অভিযানটি দুদকের যশোর শাখার উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম পরিচালনা করেছে। টিমটি যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করে অফিসার আলমের রুমে অনুসন্ধান চালায়। রুম থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার করার পর আলমকে আটক করা হয়।

অধিকাংশ নগদ অর্থ এক লাখ বিশ হাজার টাকার সমান, যা ঘুষের রূপে পাওয়া গেছে বলে দুদক জানায়। দুদকের মতে, এই টাকা অফিসের কাজের সাথে সম্পর্কিত কোনো বৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে, অফিসার আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের সন্দেহ গড়ে উঠেছে।

আশরাফুল আলম যশোর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার পদে থাকা অবস্থায় তিনি শিক্ষাব্যবস্থার তদারকি ও নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন। তবে, এই গ্রেপ্তার তার কর্মজীবনে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তবে তিনি নিজের পরিবারিক তথ্য শেয়ার করেছেন। নুরুন্নবীর স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং গত বছর ২ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য দুদকের তদন্তে প্রাসঙ্গিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন জানান, আশরাফুল আলমকে বর্তমানে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘুষের উৎস, প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচয় বের করার চেষ্টা করা হবে। দুদক জোর দিয়ে বলেছে যে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। জেলা দুদক অফিসের মতে, ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দেউলিয়া আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, দুদক সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংরক্ষণ করে আদালতে উপস্থাপন করবে।

আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি ধারা ৩৯(১) অনুসারে দণ্ড ও জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা। যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি সরকারি সম্পদকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, তবে তিনি দণ্ডবিধি ধারা ৪১(১) অনুসারে দণ্ডিত হতে পারেন।

অধিকতর তদন্তের পর, দুদক আদালতে মামলার রায়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল করবে। আদালতের শোনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে দুদক জানিয়েছে যে, দ্রুততম সময়ে মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

এই গ্রেপ্তারটি যশোর জেলার শিক্ষা বিভাগের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাজকর্মে অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের সেবা সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। দুদক ও শিক্ষা বিভাগ উভয়ই এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সমন্বয় কাজ চালিয়ে যাবে।

দুদক যশোর শাখা জেলা পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে অনুরূপ পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের আস্থা পুনর্স্থাপন করা লক্ষ্য। ভবিষ্যতে দুদক আরও কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাবে বলে দপ্তর জানিয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments