18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচনী কমিশনকে সিসি ক্যামেরা ও নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিকের দাবি জামায়াতে ইসলামের প্রতিনিধিদের

নির্বাচনী কমিশনকে সিসি ক্যামেরা ও নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিকের দাবি জামায়াতে ইসলামের প্রতিনিধিদের

বুধবার, রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচনী কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চারজন সহকমিশনারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামের উচ্চপদস্থ নেতারা একত্রিত হন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোট কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা, যাতে আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়।

মিটিংয়ে জামায়াতে ইসলামের নায়েব আমির, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং দলের ছয়জন প্রতিনিধি অংশ নেন। উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের সভায় জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে কমিশনকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা প্রদর্শন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা না থাকলে ফলাফল যাচাইয়ের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হয় এবং তা নির্বাচনকে সন্দেহের মুখে ফেলে। তাই তিনি কমিশনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়িয়ে তৎক্ষণাৎ ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানান।

তাহের আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সব স্তরে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ডিসি-এসপিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে গত ৫৬ বছর ধরে সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাবই বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ। এই ধারাবাহিক সমস্যার সমাধান না হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি একবার আবার জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে একটি সমান পরিবেশ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গড়ে তুলতে হবে, যাতে সকল রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পায়। অন্যথায়, জনগণ ও জাতি কমিশনকে দায়বদ্ধ করবে এবং তার কাজের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কমিশনের দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অন্যান্য প্রতিনিধিরাও ক্যামেরা স্থাপন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক নিয়োগের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে ভোটের ফলাফল যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তা নির্বাচনকে অবিশ্বাসের শিকারে পরিণত করে। ড. হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, ডিসি-এসপিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক সমর্থনহীন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়বে।

এই সভা নির্বাচনী কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়। ক্যামেরা স্থাপন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক নিয়োগের দাবি শোনার পর, কমিশনকে নীতি নির্ধারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের দাবি ভবিষ্যতে নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার সংশোধনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, জামায়াতে ইসলামের নেতারা এবং তাদের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, সিসি ক্যামেরা এবং নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিকের মাধ্যমে ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে। এই দাবি নির্বাচনী সংস্থার উপর জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল করার সম্ভাবনা তৈরি করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments