ইউরোপীয় বহিরাগত কর্মসূচি (EEAS) এর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কার্যনির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করা পাউলা পাম্পালোনি, আজ ঢাকা শহরের স্টেট গেস্ট হাউস জামুনায় চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। সাক্ষাৎকারে দুই পক্ষ বাংলাদেশ‑ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যার মূল বিষয় ছিল সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি (CPA) এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন।
পাম্পালোনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে CPA নিয়ে আলোচনার সূচনা করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে দুই দশকের সাধারণ অংশীদারিত্বের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত। তিনি এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ উন্মোচনের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, যা উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
সাক্ষাৎকারে উভয় পক্ষের আলোচনায় CPA‑এর কাঠামোগত চুক্তি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, এবং বাণিজ্য‑বিনিয়োগের সম্প্রসারণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাম্পালোনি উল্লেখ করেন, এই আলোচনাগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং EU এই প্রক্রিয়াকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রফেসর ইউনুস, যিনি আগস্ট ২০২৪ থেকে অস্থায়ী সরকার পরিচালনা করছেন, পাম্পালোনি‑এর প্রশংসা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, interim সরকার যে সংস্কারগুলো চালু করেছে, সেগুলো EU‑এর জন্য বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী এবং দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক। ইউনুস CPA‑কে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে, এটি বাংলাদেশ‑EU সম্পর্ককে “দৃঢ় করবে” বলে আশ্বাস দেন।
পাম্পালোনি আরও জানিয়ে দেন, EU নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান এই সপ্তাহের শেষের দিকে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। মিশনের প্রধান দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এই পর্যবেক্ষণ মিশন EU‑এর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আগ্রহের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত।
সাক্ষাৎকারের শেষে পাম্পালোনি EU‑এর বাংলাদেশ‑এর সঙ্গে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তির অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে, উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, CPA‑এর সফল বাস্তবায়ন উভয় পক্ষের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে। ভবিষ্যতে এই চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা উভয় দেশের সরকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল।



