রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে কাজ করা সহকারী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলামকে যৌন হয়রানি অভিযোগের ভিত্তিতে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৫তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয় এবং বিকালের মধ্যে কার্যনির্বাহী রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদের মাধ্যমে জানানো হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পেছনে একটি তদন্ত কমিটির প্রস্তুত করা প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগের তদন্তের জন্য আইন বিভাগের গঠন করা বিশেষ কমিটি প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা সিন্ডিকেটের সামনে উপস্থাপন করে। কমিটির রিপোর্টে উল্লেখিত নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সাদিকুলকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
সাদিকুল ইসলাম পূর্বে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ৫৩৩তম সিন্ডিকেট সভায় ২৪ সেপ্টেম্বর গত বছর তাকে সমস্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অস্থায়ীভাবে মুক্ত করা হয়েছিল। এই সাময়িক সাসপেনশন ছিল তদন্তের প্রাথমিক ধাপের অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীকে সরকারি সুবিধা, পেনশনসহ, পাওয়ার অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাই সাদিকুলের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুবিধা এখন থেকে সীমিত থাকবে।
অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ২৬ আগস্ট, যখন একটি সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সাদিকুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ প্রকাশিত হয়। ওই পোস্টটি দ্রুত শেয়ার হয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত এই অভিযোগের পর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়ার কাজ করে।
তদন্তের ফলাফল জানার পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ২৪ সেপ্টেম্বরের সভায় সাদিকুলকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপটি তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।
পরবর্তী পর্যায়ে, ৫৪৫তম সিন্ডিকেট সভায় সম্পূর্ণ বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও শাসন কাঠামোর অধীনে নেওয়া হয় এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুযায়ী, যৌন হয়রানি বা অন্য কোনো ধরনের শোষণমূলক আচরণে জড়িত কর্মচারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। এই শাস্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সদর বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তদন্ত প্রক্রিয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব ধাপই নথিভুক্ত এবং প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের নজরে রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যদি কোনো শিক্ষার্থী বা কর্মী অনুপযুক্ত আচরণের শিকার হন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে জানানো উচিত। নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
আপনার ক্যাম্পাসে যদি অনুরূপ সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্পলাইন বা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে দ্রুত রিপোর্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে সমস্যার সমাধান দ্রুত হয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়।



