19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
HomeরাজনীতিSAD সভাপতি রিফাত রশিদ এনসিপির নীরবতা ও নির্বাচনী পরিকল্পনা সমালোচনা

SAD সভাপতি রিফাত রশিদ এনসিপির নীরবতা ও নির্বাচনী পরিকল্পনা সমালোচনা

Students Against Discrimination (SAD) সভাপতি রিফাত রশিদ আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি)‑কে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাবিগঞ্জ ইউনিটের সদস্য সচিব মাহদি হাসান ও “জুলাই যোদ্ধা” তাহরিমা জান্নাত সুরভি সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার সময় পার্টির নেতারা নীরব ছিলেন এবং কেবল মুক্তির পরই মন্তব্য প্রকাশ করেন। রিফাতের মতে, জুলাই বিদ্রোহের মাধ্যমে রাজনৈতিক মঞ্চে আসা এনসিপি নেতারা বিপদের সময়ে একটাও শব্দ না করে গেছেন, যা তাদের নৈতিক দায়িত্বের লঙ্ঘন।

রিফাত জোর দিয়ে বলেন, যদি এনসিপি ভোটের খেলা খেলতে এবং আওয়ামী লীগ‑এর ভোটভান্ডারকে আকর্ষণ করতে চায়, তবে তা জুলাই বিদ্রোহের সাথীদের ত্যাগের সমান হবে এবং তা একটি গুরুতর ভুল। তিনি সতর্ক করেন, নির্বাচনী রণকৌশলে জড়িয়ে পার্টি যদি বিদ্রোহীর আত্মা ভুলে যায়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আওয়ামী লীগকে রিফাত “কালো কোবরা”র সঙ্গে তুলনা করেন, যা গর্তে লুকিয়ে থাকে এবং সুযোগ পেলে তীব্র বিষ ছড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, একবার কোবরা আক্রমণ করলে শুধু পার্টি নয়, জুলাই বিদ্রোহের যোদ্ধাদেরও ক্ষতি হবে। এই রূপকটি পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জোটের প্রতি তার উদ্বেগকে প্রকাশ করে।

সাময়িকভাবে, রিফাত তিনটি কর্মসূচি ও বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন। প্রথমত, মাহদি হাসান ও তাহরিমা সুরভির অবিলম্বে ও শর্তহীন মুক্তি দাবি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি আদেশ জারি করে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ছাত্র ও সাধারণ জনগণের কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ ক্ষমা প্রদান করতে হবে। তৃতীয়ত, বিদ্রোহের সময় সামরিক, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পারামিলিটারি ও সিভিল প্রশাসনের সদস্যদের অবদান নথিভুক্ত করার দাবি করা হয়েছে।

এনসিপি পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পার্টি গ্রেফতার পর প্রকাশিত বিবৃতি থেকে বোঝা যায় তারা মুক্তির পরই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছে। রিফাতের মতে, এই ধরণের প্রতিক্রিয়া সমস্যার সমাধান নয়, বরং সময়মতো সমর্থন না দেওয়া আরও বড় প্রশ্ন উত্থাপন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রিফাতের বক্তব্য এবং SAD‑এর দাবিগুলি দেশের ছাত্র আন্দোলন ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, এনসিপি যদি ভোটের জন্য আওয়ামী লীগ‑এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তবে ছাত্র সংগঠনগুলো থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া পাওয়া স্বাভাবিক।

এই পরিস্থিতি সরকারকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে, কারণ ছাত্র আন্দোলনের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা দেশের রাজনৈতিক বৈধতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রিফাতের দাবি অনুযায়ী, যদি সরকার দ্রুত আদেশ জারি করে এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেয়, তবে বিদ্রোহের সময়কালের স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সামগ্রিকভাবে, রিফাত রশিদের সমালোচনা এবং SAD‑এর দাবি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এনসিপি‑এর ভবিষ্যৎ কৌশল, আওয়ামী লীগ‑এর ভূমিকা এবং ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান এই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments