মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল ট্যাংকারকে আটলান্টিক মহাসাগরে অনুসরণ করা রাশিয়া, সাবমেরিন পাঠিয়ে চাপে থাকা জাহাজের পিছু থামাতে অনুরোধ জানিয়েছে। ট্যাংকারটি পূর্ব আটলান্টিকের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় রাশিয়ার সামরিক জাহাজের উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং রাশিয়ার অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্যাংকারের পেছনে ধাওয়া বন্ধ করতে বলেছে। এই তথ্যের স্বতন্ত্র যাচাই রায়টার্সের জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।
হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে এই বিষয়ের উপর কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি সূত্রগুলো কর্মঘণ্টার বাইরে মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই দিনে জানিয়েছে যে, ট্যাংকারের চারপাশে গড়ে ওঠা পরিস্থিতি তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, রাশিয়া আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের অধীনে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যকে পুনরায় প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ট্যাংকারের পিছু ধাওয়া বন্ধ করার অনুরোধ করেছে। আরআইএর প্রকাশনা অনুযায়ী, রাশিয়া এই অনুরোধের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে চায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার) পেজে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঐ পোস্টে রাশিয়ার সাবমেরিন বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের কোনো সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ট্যাংকারটির গতিপথ অনুসরণ করে এবং জানিয়েছে যে, জাহাজটি বর্তমানে আইসল্যান্ডের দক্ষিণে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে উত্তর সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই অবস্থান থেকে ট্যাংকারটি পূর্ব আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে প্রবেশের পথে রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে যে, ট্যাংকারটি তার মূল নাম পরিবর্তন করে “ম্যারিনেরা” রেখেছে এবং রাশিয়ায় পুনরায় নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের মাধ্যমে রাশিয়া জাহাজের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।
একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আটকে থাকা প্রায় পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেল দেশীয় সীমার মধ্যে আটকে ছিল। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান যা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে, তার পর থেকে ওয়াশিংটন ও কারাকাস সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে। এই সমন্বয় ট্যাংকারের পরিস্থিতি ও ভেনেজুয়েলার তেল বিষয়ক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাশিয়ার সাবমেরিন প্রেরণকে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর একটি নতুন উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো রাশিয়ার সামুদ্রিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ট্যাংকারের গতি ও রাশিয়ার সাবমেরিনের অবস্থান ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে এই ঘটনার সমাধানের পথ খোঁজা হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই ঘটনা তেল বাজারের স্থিতিশীলতা ও সমুদ্র নিরাপত্তা নীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



