জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন জামায়াত-ই-ইসলামি বাংলাদেশ একটি উচ্চপদস্থ দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনী সমতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। জামায়াতের নায়েব-এ-আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নেতৃত্বে পাঁচজনের প্রতিনিধিদলকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান, এএমএম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও-এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে তারা আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সমান মাঠে প্রতিযোগিতা নীতি কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে তা তুলে ধরেন। তাহের মতে, বর্তমান সময়ে নির্বাচন কোডের লঙ্ঘন এবং অসমান প্রচার সুবিধা ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। তিনি এই বিষয়গুলো সমাধান না হলে নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে জোর দেন।
বৈঠকের সময় তাহের উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের প্রার্থীদের নাম প্রস্তাবের যাচাই প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট বৈষম্য ঘটেছে। তিনি দাবি করেন যে, কিছু ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীদের নাম অনুমোদিত হয়েছে, অন্যদিকে সমান শর্তে অন্যদের নাম প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই পার্থক্যকে তিনি নির্বাচন কোডের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তদুপরি, তিনি নাম প্রস্তাবের স্ক্রুটিনিতে পার্টি-নির্ভর উপদেষ্টা ও ডিপুটি কমিশনারদের নিয়োগের অভিযোগ তুলে বলেন যে, এই নিয়োগগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে করা হয়েছে। তিনি এসব পদে থাকা কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের দাবি করেন যাতে প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ থাকে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈষম্যকে তিনি বিশেষ উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। ফেনি থেকে আবদুল আওয়াল মিন্টু এবং সিলেটের আবদুল মালেকের নাম দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও অনুমোদিত হয়েছে, যদিও একই শর্তে কুড়িগ্রামের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুব সেলেহিনের নাম প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাহের মতে, একই দেশের মধ্যে দুইটি ভিন্ন ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বিদ্যমান থাকা স্বাভাবিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অসঙ্গতি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনী ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করে।
প্রচার সমতা বিষয়ে তাহের অভিযোগে তিনি বলেন, একটি দলকে ব্যাপক প্রচার ও সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে, অন্যদিকে অন্যান্য দলকে সমান সুযোগ না দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট দল ভোটার গ্রাহক ফান্ড (VGF) কার্ড, কৃষি কার্ড এবং পারিবারিক কার্ডের বিতরণে অগ্রাধিকার পেয়েছে, যা নির্বাচন কোডের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের সুবিধা প্রার্থীদের ভোটার ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক সুবিধা প্রদান করে। তাহের মতে, এমন অনিয়মের ফলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা বাড়ে। তিনি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন।
বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদল ভোটিং কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি তুলে ধরে। তারা দাবি করেন, ক্যামেরা না থাকলে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। সিইসি এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, কমপক্ষে নব্বই শতাংশ কেন্দ্রেই ক্যামেরা বসানো হবে। তিনি বলেন, ক্যামেরা স্থাপন ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি রোধে সহায়তা করবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ক্যামেরা স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
তাহের শেষ মন্তব্যে তিনি সতর্ক করেন, যদি নির্বাচনের পরিবেশ এই রকম পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়, তবে বাংলাদেশ একটি অস্তিত্বগত সংকটে পড়বে। তিনি বলেন, সমতা না থাকলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিতে যাবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এক দল ইতিমধ্যে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট দল উল্লেখ করা হয়নি। তাহের মতে, এমন পরিস্থিতি দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে সমান আচরণ ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এই অভিযোগগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং আদালতের রায় ভবিষ্যতে সমতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি সিইসি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, যদি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত, নির্বাচনের



