শ্রীয়াঙ্কা পাটিল, যিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)‑এর শিরোপা রক্ষার জন্য নির্বাচিত ছিলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত উইমেনস টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপের সময় শিনে আঘাত পেয়ে পুরো উইমেনস প্রিমিয়ার লীগ (WPL) মিস করতে বাধ্য হন। সেই ম্যাচে তিনি ব্যাটিং ও ফিল্ডিং দুটোই না করতে পেরেছিলেন, ফলে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা প্রকাশ পায়।
প্রাথমিকভাবে পাটিল বিশ্বাস করেন যে আঘাতটি সাময়িক এবং কয়েক মাসের মধ্যে সেরে যাবে। তবে শিন স্প্লিন্টসের পুনরাবৃত্তি তাকে বারবার চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠায় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বেসিক্যালি ১৩‑১৪ মাসের বেশি সময় বেসি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স (CoE)‑এ কাটাতে হয়। এই সময়ের মধ্যে তিনি সম্পূর্ণভাবে মাঠে ফিরে আসতে পারেননি, যদিও তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা উন্নতি অনুভব করছিলেন।
দীর্ঘমেয়াদী অনুপস্থিতি পাটিলকে শুধুমাত্র WPL‑এ নয়, এপ্রিল‑মে মাসে শ্রীলঙ্কা‑এ অনুষ্ঠিত ত্রয়ী সিরিজ, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা অংশগ্রহণ করেছিল, এবং জুন‑জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের ট্যুরেও অংশ নিতে বাধা দেয়। সর্বশেষে, তার নিজের দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি, যা তার জন্য বিশেষভাবে কষ্টদায়ক ছিল; একজন ক্রিকেটার হিসেবে তিনি সবসময় ট্রফি তোলার স্বপ্ন দেখেন।
CoE‑এ কাটানো সময় পাটিলের জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল। তিনি স্বীকার করেন যে প্রারম্ভিক কয়েক মাস তিনি নিজেকে একা একটি ঘরে আটকে রাখতেন, কোনো সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলতেন না। তার স্বাভাবিক উজ্জ্বল স্বভাবের বিপরীতে এই বিচ্ছিন্নতা তাকে আত্মসমীক্ষার দিকে নিয়ে যায় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি একা নন। ধীরে ধীরে তিনি অন্যান্য আঘাতগ্রস্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন, যা তার মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে যখন তিনি সহকর্মী দ্রুতগামী বলার জসপ্রিত বুমরাহের সঙ্গে কথা বলেন, যিনি নিজেও CoE‑এ একই সময় কাটিয়েছেন। পাটিল বুমরাহকে চাপের মধ্যে বলিং কিভাবে সামলাতে হয়, বিশেষ করে ইয়র্কার প্র্যাকটিসের টেকনিক সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। বুমরাহের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ পাটিলকে পুনরায় আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পদ্ধতি স্পষ্ট করে।
পাটিলের এই অভিজ্ঞতা শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি মানসিক সহায়তার গুরুত্বকে তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন যে CoE‑এর পরিবেশে সমবয়সী খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করা তাকে একাকিত্বের অনুভূতি থেকে মুক্তি দেয় এবং পুনরায় মাঠে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জোরদার করে। তার কথায় স্পষ্ট যে দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিতি কেবল তার ক্যারিয়ার নয়, দলের কৌশলগত পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করেছে।
RCB এখন পাটিলের অনুপস্থিতি বিবেচনা করে দলের স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে হবে। কোচিং স্টাফ তার অভিজ্ঞতা ও বোলিং ক্ষমতা মিস করবে, তবে তিনি শীঘ্রই পুনরুদ্ধার শেষে আবার দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। দলটি পাটিলের পুনরায় ফিটনেস অর্জনের পর তাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তুত, এবং তার ফিরে আসা দলকে আরও গভীরতা প্রদান



