বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নাজরুল বুধবার মিডিয়ার সামনে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, দেশের দল আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় মঞ্চে যাবে না। তিনি বললেন, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগ্রহী, তবে তা দেশের গৌরব ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে না।
বিসিবি পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকের পর উপদেষ্টা নাজরুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে চায়, তবে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি দৃঢ়ভাবে বজায় থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি দেশের সম্মান ও দলের সুরক্ষা ঝুঁকিতে থাকে, তবে আমরা কোনোভাবে অংশগ্রহণের কথা ভাবব না।”
এই সিদ্ধান্তের পেছনে গত সপ্তাহে বাড়তে থাকা উত্তেজনা রয়েছে। সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আইপিএল টেলিকাস্টে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, মুস্তাফিজুর রাহমানের মুক্তি নিয়ে বিতর্ককে “অযৌক্তিক” বলে সমালোচনা করে। নাজরুলও এই নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে, তিনি বলেছিলেন, “বিসিসির ধারাবাহিক নীতি আমাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদা হরণ করেছে।”
উপদেষ্টা আরও জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন, তবে তা নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। তিনি বলেন, “ভারতে বর্তমান নিরাপত্তা অবস্থা শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, এটি জাতীয় গৌরবের প্রশ্নও উত্থাপন করে।”
মুস্তাফিজুরের কেএআর থেকে মুক্তি এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোলকাতা নাইট রাইডারস (কেকেআর) বি.সিসি’র নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা নাজরুলের মতে “খেলাধুলার পরিবেশে শত্রুতার স্পষ্ট চিহ্ন”। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দলকে নিরাপদে খেলা সম্ভব নয়।”
উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, এটাই দেশের আনুষ্ঠানিক দাবি। নাজরুলের মতে, শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক দেশটি নিরাপত্তা দিক থেকে উপযুক্ত এবং গৌরব সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
বিসিবি কর্মকর্তারা নাজরুলের সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত আইসিসি থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি মিডিয়া এবং ভক্তরা দু’ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নাজরুলের অবস্থানকে সমর্থন করছেন, আবার অন্যরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে অংশ না নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, টুর্নামেন্টের সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত, তবে ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে শ্রীলঙ্কা ও ভারতীয় শহরগুলোর মধ্যে পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে। নাজরুলের মতে, এই পরিবর্তন না হলে দলটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও জোর দিয়ে বলেন, “দেশের গৌরব ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “যদি আইসিসি এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দেয়, তবে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করব না।”
এই বিবৃতি দেশের ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। নাজরুলের মন্তব্যের পর, আইসিসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশি ক্রিকেট দল ভারতীয় ভেন্যুতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে, শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি দৃঢ়ভাবে বজায় রয়েছে, এবং নিরাপত্তা ও জাতীয় গৌরব সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় এখনই মূল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।



