শাকসু ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে, ৪ জানুয়ারি থেকে একটি উন্মুক্ত দাবী বোর্ড স্থাপিত হয়েছে। “শাকসুতে আপনার চাওয়া” শিরোনামে এই বোর্ডটি “সাধারণের ঐক্যস্বর” প্যানেলের প্রার্থীরা পরিচালনা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের প্রস্তাবনা ও মন্তব্য লিখে রাখতে পারেন।
বোর্ডে জমা দেওয়া চাহিদাগুলো মূলত ক্যাম্পাসের মৌলিক সুবিধা ও সেবার উন্নয়নের দিকে কেন্দ্রিত। প্রথমদিকে সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য মন্দিরের পরিকল্পনা, মহিলাদের ল্যাব ব্যবহারে সহজতর ব্যবস্থা, এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের তত্ত্বাবধানে শুধুমাত্র যাচাই করা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সামাজিক মিডিয়া গ্রুপের সূচনা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা পরিষ্কার শৌচাগার বজায় রাখা, বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, ক্যাফেটেরিয়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ, সেমিস্টার ও ক্রেডিট ফি হ্রাস, এবং আবাসিক হোস্টেলে আসন সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া সব ক্লাসরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত খাবারের দোকান স্থাপন, এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে, জার্নাল অ্যাক্সেস বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বসার জায়গা, ইনডোর স্পোর্টস জোনের সৃষ্টি, এবং সামাদ হলের পানির আয়রন মাত্রা কমানোর দাবি করা হয়েছে। কিলো রোডের আশপাশে মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত শৌচাগার স্থাপনের প্রস্তাবও শিক্ষার্থীদের তালিকায় রয়েছে।
অন্যান্য কিছু মন্তব্য মজার স্বরে প্রকাশ পায়; যেমন, গণবিবাহের আয়োজন, পরীক্ষায় উচ্চ নম্বরের নিশ্চয়তা, এবং শাকসু নির্বাচনের পর বড় পরিসরে খাবার-দাবার আয়োজনের ইচ্ছা। এসব নোট বোর্ডে লিখে শেষ হলে, শিক্ষার্থীরা তা নোট করে মুছে ফেলেন, যাতে নতুন আগত শিক্ষার্থীরা তাজা ধারণা যোগ করতে পারেন।
বোর্ডের ব্যবস্থাপনা দল নিয়মিতভাবে লিখিত চাহিদা সংগ্রহ করে, এবং তা সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। যদিও কিছু দাবি সরাসরি বাস্তবায়নের জন্য তহবিল ও অনুমোদনের প্রয়োজন, তবু শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ক্যাম্পাসের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শাকসুতে শিক্ষার্থীদের এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো প্রকাশের সুযোগ পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভবিষ্যতে এই ধরনের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও বেশি মতামত সংগ্রহ করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নীতি নির্ধারণে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
আপনার ক্যাম্পাসে যদি এমন কোনো উন্মুক্ত দাবী বোর্ড থাকে, তবে তা কীভাবে ব্যবহার করছেন? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী হতে পারে।



