কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী সীমান্তে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতের সময় দুই যুবককে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ সীমান্ত গার্ড (বিজিবি) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন।
বিজিবি লালমনিরহাট-১৫ ব্যাটালিয়নের অধীনে কাজ করা কাশিপুর বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজোয়াটারী সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। গোপন সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় সীমান্ত দিক থেকে দুই সন্দেহভাজন চোরাকারবারি এই এলাকায় প্রবেশের পরিকল্পনা করছিল।
অভিযানের সময়, সীমান্তের নিকটবর্তী গলি ও গাছের ছায়ায় সন্দেহভাজনদের চলাচল লক্ষ্য করা যায়। বিজিবি কর্মীরা দ্রুতই তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে, সন্দেহভাজনদের থামাতে চ্যালেঞ্জ জানায়।
চ্যালেঞ্জের মুখে দুজনই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে, তবে সীমান্ত গার্ডের সদস্যরা দ্রুতই তাদের পিছু নেয় এবং হাতে হাতেনা ব্যবহার করে আটক করে। এই সময়ে সন্দেহভাজনদের হাতে থাকা কয়েকটি ব্যাগ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এবং অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী বের করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা সীমান্ত পারাপার করে মাদক পাচার এবং চোরাচালান কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। ট্যাবলেটের পাশাপাশি কিছু নগদ অর্থ এবং ছোটখাটো চোরাচালান সামগ্রীও জব্দ করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম, পিএসসি, লালমনিরহাট-১৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার, গ্রেফতার সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, সীমান্ত গার্ডের প্রধান লক্ষ্য হল দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তৎপর থাকা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্তে নিয়মিত নজরদারি এবং গোপন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম রোধ করা সম্ভব।
গ্রেফতারকৃত দুজনকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে হাজির করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, তারা মাদক পাচার ও চোরাচালান সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ী হবে এবং যথাযথ শাস্তি পাবে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সামগ্রী এবং সন্দেহভাজনদের বিবরণি তদন্তের অধীনে রয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আরও বিশেষ অভিযান চালিয়ে সীমান্তে মাদক প্রবাহ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সীমান্ত গার্ডের এই ধরণের কার্যক্রম দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তে মাদক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্তে মাদক পাচার বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে ইয়াবা ট্যাবলেটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুবকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তাই সীমান্ত গার্ডের সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং গোপন তথ্যের ব্যবহার অপরিহার্য।
অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে।



