সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে পুরো মৌসুমের জন্য চুক্তি করা পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির, ছয়টি ম্যাচের পরই দুই পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতায় দল ছেড়ে বাংলাদেশ থেকে প্রস্থান করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি সিলেট টাইটান্সের অফিসিয়াল ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরম্ভে, আন্তর্জাতিক লিগের টি-টোয়েন্টি না থাকায় আমির বাংলাদেশে আগমনের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শেষ হওয়া ইন্টারন্যাশনাল লিগে অংশ নেন। ফলে, তিনি বিপিএল শুরুর আগে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং সিলেটের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সিলেট টাইটান্স ইতিমধ্যে আমিরের মোট পারিশ্রমিকের সত্তর শতাংশ প্রদান করেছে। বাকি বাকি অংশের পরিশোধের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে দলটি নিশ্চিত করেছে যে সব আর্থিক দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে।
মোহাম্মদ আমিরের পারফরম্যান্সের দিক থেকে, ছয়টি ম্যাচে তিনি মোট চারটি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। যদিও তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি, তবে তার উপস্থিতি সিলেটের বোলিং আক্রমণে কিছুটা গভীরতা যোগ করেছে।
সিলেট টাইটান্সের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, চুক্তি সমাপ্তির পরেও আমিরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তিনি টুর্নামেন্টের কোনো পর্যায়ে আবার ফিরে আসবেন কিনা তা এখনো অনিশ্চিত।
একই সময়ে, পাকিস্তানি দ্রুতগতি পেসার সাইম আইয়ুবও বিপিএল থেকে প্রস্থান করেছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে দেশে ফিরে গেছেন।
সাইম আইয়ুবের প্রত্যাহারের ফলে, তার ফ্র্যাঞ্চাইজি চারটি ম্যাচের বেতন সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে এবং তার পরিবর্তে কোনো বিকল্প খেলোয়াড় নিয়োগ করা হয়নি। এই পদক্ষেপটি দলকে আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
সিলেট টাইটান্স বর্তমানে টুর্নামেন্টে ছয়টি ম্যাচ খেলে তিনটি জয় এবং তিনটি পরাজয় অর্জন করেছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে দলটি টেবিলে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে দেখা যায়, ব্যাটিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা এবং বোলিং আক্রমণের সমন্বয় এখনও উন্নতির প্রয়োজন। তবে, বর্তমান অবস্থান থেকে তারা প্লে-অফের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছে।
আগামী সপ্তাহে সিলেট টাইটান্সের পরবর্তী ম্যাচটি টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা দলের সঙ্গে নির্ধারিত হয়েছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলকে পয়েন্ট বাড়ানোর পাশাপাশি র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতি করার সুযোগ দেবে।
দলীয় ব্যবস্থাপনা বলেছে, নতুন বিদেশি খেলোয়াড়ের সন্ধান বা বিদ্যমান স্কোয়াডের পুনর্গঠন নিয়ে তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তবে, পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য প্রশিক্ষণ শিবির চালু রয়েছে।
সিলেট টাইটান্সের ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে দলের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং আশা করা হচ্ছে দলটি পরবর্তী ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিয়ে শীর্ষে উঠবে।



