27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকপাকিস্তান ও বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স জে-এফ-১৭ বিক্রয় নিয়ে আলোচনা

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স জে-এফ-১৭ বিক্রয় নিয়ে আলোচনা

ইস্লামাবাদে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধানরা জে-এফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রয়ের সম্ভাবনা নিয়ে গোপনীয় আলোচনায় অংশ নেন। দু’দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ২৯ জানুয়ারি একত্রিত হয়ে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামো নির্ধারণ করেন। এই বৈঠকটি দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবার সিধু এবং বাংলাদেশের এয়ার চিফ হাসান মাহমুদ খান জে-এফ-১৭ের ক্রয় শর্তাবলী, ডেলিভারি সময়সূচি এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পাকিস্তানি সামরিক যোগাযোগ বিভাগ এই বৈঠকের ফলাফলকে “দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে” বলে জানায়।

পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে মে ২০২৩-এ সংঘটিত তীব্র আকাশযুদ্ধের পর তার এয়ার ফোর্সের পারফরম্যান্সকে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই সংঘর্ষে পাকিস্তান তার জে-এফ-১৭ের কার্যকারিতা তুলে ধরেছে, যা এখন সম্ভাব্য রপ্তানি পণ্য হিসেবে বাংলাদেশে আগ্রহ জাগিয়েছে।

জে-এফ-১৭ থান্ডার একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রকল্পের ফল। এর রেডার, অস্ত্র বহন ক্ষমতা এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচকে নিয়ে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের নজরে এসেছে। বাংলাদেশ যদি এই বিমানটি অর্জন করে, তবে তার বায়ু প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

পাকিস্তান এছাড়াও বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণবিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সঙ্গে পূর্ণ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা ব্যবস্থা। এই পদক্ষেপটি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার পরিসরকে প্রশিক্ষণ থেকে অপারেশন পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চায়।

এই আলোচনার পটভূমিতে রয়েছে আগস্ট ২০২৪-এ বিশাল প্রতিবাদ যা তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের দিকে পালাতে বাধ্য করে এবং ঢাকা-নতুন দিল্লির সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই ঘটনার পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু করে এবং সামরিক স্তরে নিয়মিত বৈঠক চালু হয়।

পাকিস্তান সামরিক দপ্তর উল্লেখ করেছে যে, এই সফরটি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। উভয় পক্ষই দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে আশাব্যক্তি প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অস্থায়ী সরকার বর্তমানে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলে একসময় নিষিদ্ধ ইসলামিক দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যার পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জে-এফ-১৭ের সম্ভাব্য ক্রয় বাংলাদেশকে অস্ত্র সরবরাহে একক নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে বহুমুখী বিকল্প প্রদান করবে। এতে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক গতিবিদ্যায় নতুন গতিপথ সৃষ্টি হবে।

পরবর্তী ধাপে উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চুক্তির বিশদ শর্তাবলী চূড়ান্ত করার জন্য অতিরিক্ত বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। ডেলিভারি সময়সূচি, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষের দিকে রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ তার বায়ু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments