পঞ্চগড়ের লিচুতলা এলাকায় জেলা এনসিপি দলীয় কার্যালয়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম স্পষ্টভাবে জানালেন, তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পদধারী ছিলেন না। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে দাবি করা হচ্ছে যে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির হয়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সারজিস আলমের মতে, তার জীবনের কোনো পর্যায়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগদানের কথা কল্পনাও করা যায় না; এমনকি কোনো স্থানীয় কমিটিতেও তার কোনো পদপদবি ছিল না। তিনি এ ধরনের গুজবকে তার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোকার্ড বানিয়ে বলা হচ্ছে, আমি নাকি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির হয়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতাম। বাস্তবে জীবনের কোনো পর্যায়েই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি তো দূরের কথা, কোনো কমিটিতেই আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না,” তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি জানান, এনসিপির রাজনীতিতে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া সদস্যদের ওপর নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হুমকি গুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নষ্ট করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
“এনসিপির রাজনীতিতে যারা যুক্ত হচ্ছেন, তাদের নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে,” তিনি পুনরায় জোর দেন।
এ ধরনের গুজব ও হুমকির মোকাবিলায় তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি তোলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে পরিচালিত হবে।
“এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন,” তিনি শেষ মন্তব্যে উল্লেখ করেন।
সারজিস আলমের এই বক্তব্যের পর এনসিপি দলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, তবে তারা অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করেননি। সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুজবের সত্যতা নিরসন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হুমকি দূর করা।
প্রধানমন্ত্রীর নিকটবর্তী নির্বাচনী সময়সীমা বিবেচনা করলে, এনসিপি দলের জন্য এই ধরনের অভিযোগের সমাধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। গুজবের প্রভাব যদি না নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তবে তা ভোটারদের মতামত গঠনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সারজিস আলমের দাবি অনুযায়ী, যদি সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, এনসিপি দলীয় নেতৃত্ব গুজবের উত্স এবং হুমকির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্তের সূচনা করতে পারে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী পর্যায়ে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোও প্রত্যাশিত।
সারসংক্ষেপে, সারজিস আলমের বক্তব্য স্পষ্ট করে যে তিনি ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে কখনো কোনো পদধারী ছিলেন না এবং গুজবের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষুন্ন করার প্রচেষ্টা চলছে। তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, যা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



