যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ফুটবল দল (USMNT) ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং কোচ মাউরিসিও পোচেটিনো দলকে ২০৩০ পর্যন্ত দৃষ্টিকোণ দিয়ে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে দলটি সম্প্রতি কলোরাডোর কমার্স সিটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ জয় অর্জন করেছে, যা অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোর শেষ ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছিল, তবে একই সময়ে USMNT ২০১৮ কোয়ালিফিকেশন থেকে বাদ পড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সেই ব্যর্থতার পর থেকে দলটি পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবনের পথে অগ্রসর হয়েছে।
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে টটেনহ্যামকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে নিয়ে যাওয়া মাউরিসিও পোচেটিনো, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ইউএসের ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ দলে কী ভূমিকা রাখতে চান তা নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ জয় অর্জনের পর পোচেটিনো বললেন, দলটি শুধুমাত্র ২০২৬ সালের জন্য নয়, বরং পরবর্তী চার বছর পরের ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্যও ভিত্তি গড়ে তুলছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের দায়িত্ব হল এমন একটি উত্তরাধিকার তৈরি করা, যেখানে খেলোয়াড়রা একই মানসিকতা ও সংস্কৃতি বজায় রাখে।” এই বক্তব্যে তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহ-আয়োজক হওয়া দলটির জন্য দ্বিগুণ অর্থবহ। প্রথমত, ঘরোয়া ভক্তদের সমর্থন সরাসরি মাঠে অনুভব হবে; দ্বিতীয়ত, মূল খেলোয়াড়রা শীর্ষ ফর্মে পৌঁছানোর সময়ে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। তাই কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড় উভয়ই এই চক্রকে ক্যারিয়ারের শীর্ষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছে।
প্রাক্তন USMNT তারকা ল্যান্ডন ডোনোভানও দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “কোর গোষ্ঠী, যার নেতৃত্বে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক আছেন, এখন ৩০ বছর বয়সে, ২০৩০ সালে এখনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সক্ষম হবে।” ডোনোভানের এই মন্তব্যে দলটির দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে।
বর্তমান কোর খেলোয়াড়দের বয়সের হিসাব করলে দেখা যায়, পুলিসিক ও ওয়েস্টন ম্যাককেনি ২০৩০ বিশ্বকাপের সময় ৩১ বছর বয়সী হবে, এবং পরে ৩২ বছর বয়সে পৌঁছাবে। টাইলার অ্যাডামসও একই বয়সের সীমার মধ্যে থাকবে, আর ক্রিস রিচার্ডস ও টিম ওয়াহ ৩০ বছর বয়সে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। গিও রেইনা ২০৩০ সালে ২৭ বছর বয়সী হবে, যা তার শীর্ষ পারফরম্যান্সের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই মূল গোষ্ঠীর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু তরুণ প্রতিভা দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে দলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নতুন খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ না করে, কোচের লক্ষ্য হল এই তরুণদেরকে কোর গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্থিতিশীল ইউনিট গঠন করা।
USMNT এখন থেকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের মাধ্যমে দলগত সংহতি ও কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। পরবর্তী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ফ্রেন্ডলি গেমের সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ দেবে।
পোচেটিনোর দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ডোনোভানের সমর্থন মিলিয়ে USMNT ২০২৬ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সচেষ্ট। এই পরিকল্পনা সফল হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক যুগের সূচনা হতে পারে, যেখানে দলটি শুধু হোস্টিং নয়, বরং টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, USMNT ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি ২০৩০ সালের জন্যও একটি সুসংহত কোর গোষ্ঠী গড়ে তুলতে কাজ করছে। কোচ পোচেটিনোর নেতৃত্বে দলটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর, এবং খেলোয়াড়দের বয়স ও ফিটনেসের দিক থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য বলে বিশ্লেষক ও প্রাক্তন খেলোয়াড়দের মতামত সমর্থন করে। ভবিষ্যৎ ম্যাচের ফলাফল ও দলের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত এই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সাফল্য নির্ধারণ করবে।



