22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকআটলান্টিকে তেলবাহী ট্যাংকারের তদারকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র‑রাশিয়া উত্তেজনা বাড়ছে

আটলান্টিকে তেলবাহী ট্যাংকারের তদারকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র‑রাশিয়া উত্তেজনা বাড়ছে

আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া খাওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে রাশিয়া সাবমেরিনসহ নৌবাহিনীর জাহাজগুলো পর্যবেক্ষণ করছে, ফলে দুই প্রধান সামরিক শক্তির মধ্যে সমুদ্রের ওপর নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। ট্যাংকারের গতি, গন্তব্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়ই সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে একই জাহাজকে ভেনেজুয়েলা গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জাহাজে হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নেয়। গার্ডের দল জাহাজে আরোহন করার জন্য প্রস্তুত থাকলেও, জাহাজের ক্যাপ্টেন দিক পরিবর্তন করে ইউরোপের দিকে অগ্রসর হন।

ক্যারিবীয়ে হস্তক্ষেপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তক্ষেপের অনুমোদন ছিল, তবে জাহাজের অপ্রত্যাশিত দিক পরিবর্তনের ফলে সরাসরি আরোহন সম্ভব হয়নি। এই পরিবর্তনকে অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইউরোপীয় অঞ্চলে সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করে, যার সংখ্যা দশের বেশি বলে জানা যায়।

সেই সময়ে রাশিয়া উত্তর আটলান্টিকের দিকে সাবমেরিনসহ একাধিক নৌযান পাঠায়, যা ট্যাংকারের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। রাশিয়ার নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন বিমানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, রাশিয়া সাবমেরিনসহ নৌযান পাঠিয়ে ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার ইউরোপীয় বেসে অবতরণ করে ট্যাংকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

রাশিয়ার নৌবাহিনীর এই উপস্থিতি আটলান্টিকের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর উপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পূর্বে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্রের ওপর সংঘর্ষের উদাহরণ কম দেখা গিয়েছে, তবে এই ঘটনা শীতল যুদ্ধের সময়ের নৌবাহিনীর তীব্রতা পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, উভয় দেশের সামরিক পদক্ষেপের পেছনে বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন রোধ করা মূল লক্ষ্য। তদুপরি, আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে নিরাপত্তা বজায় রাখতে উভয় পক্ষই শক্তি প্রদর্শন করছে।

এই পরিস্থিতি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আটলান্টিকের নিরাপত্তা সরাসরি ইউরোপীয় শক্তি ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। ন্যাটো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাশিয়ার সামুদ্রিক উপস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত প্রতিক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্যাংকারের গন্তব্য পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়ই নিজেদের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করছে।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে উভয় দেশের নৌবাহিনী অতিরিক্ত নজরদারি চালিয়ে যাবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সমুদ্র নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments