ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান পার্টির এক সমাবেশে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর ওপর নতুন অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্পের মতে, মাদুরো সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের সামনে তার নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করার চেষ্টা করেছেন। এই মন্তব্যের পর সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ট্রাম্প সমাবেশে বলেন, “মাদুরো সেখানে উঠে দাঁড়িয়ে আমার নাচের কিছু অংশ নকল করার চেষ্টা করেছেন।” তিনি এই বক্তব্যকে মাদুরোর জনসমক্ষে প্রকাশিত নাচের সঙ্গে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে চাওয়ার ইঙ্গিত দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাদুরো জনসাধারণের সামনে নাচ ও নির্লিপ্ত ভঙ্গি প্রদর্শন করেছেন, যা হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য বহন করে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে, “নো ওয়ার, ইয়েস পিস” স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত একটি টেকনো রিমিক্সে মঞ্চে নাচের দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ ও পদত্যাগের দাবিকে ব্যঙ্গ করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন নেতা হুগো শ্যাভেজও সমাবেশে নাচের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করতেন। ট্রাম্পের দল মাদুরোর সাম্প্রতিক আচরণকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে তাচ্ছিল্য করার একটি সংকেত হিসেবে দেখছে।
গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অভিযান চালানো হয়, যেখানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অপারেশনে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে, তবে ভেনেজুয়েলার সরকার কাঠামোগতভাবে এখনও কার্যকর রয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু বিশ্লেষক মাদুরোর নাচকে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, আবার অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক রঙের অতিরঞ্জিত মন্তব্য হিসেবে দেখেন। তবে ট্রাম্পের দল স্পষ্টভাবে মাদুরোর নাচকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-প্রণয়নে হস্তক্ষেপের একটি রূপ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মাদুরোর আচরণ ও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পরিণতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজরে থাকবে।
ট্রাম্পের এই নতুন অভিযোগের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যখন উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমালোচনার শিকার। ভবিষ্যতে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



