ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসান এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভী উপস্থিত ছিলেন। দুজনেই সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও আটক সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য বক্তব্য রাখেন।
মাহদী হাসান, যিনি হবিগঞ্জের একজন ছাত্র এবং আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক, নিজে ও সংগঠনের ওপর আনা অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার করতে চান। তার বক্তব্যে সংগঠনের লক্ষ্য ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
তাহরিমা জান্নাত সুরভী তার গ্রেপ্তার ও কারাগার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানান, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত সাড়ে ১২টায় টঙ্গি পূর্ব থানা, গোপালপুরের টেকপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি মামলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে তাকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারির পর ৫ জানুয়ারি তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, এবং দুই ঘণ্টা পরই তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
সুরভী গ্রেপ্তারির সময়ের কঠোর শর্তাবলী বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আটককালে তাকে পরিবারের সঙ্গে এক মিনিটের জন্যও কথা বলার অনুমতি না দেওয়া হয় এবং তার যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়। তিনি জানেন না বাইরে কী ঘটছে, মা কোথায় যাচ্ছেন, অথবা তার পরিবার কী অবস্থায়। এই বিচ্ছিন্নতা তাকে মানসিকভাবে কষ্টের মধ্যে ফেলেছিল।
বন্দি অবস্থায় একবার তিনি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তার পায়ের পাশে হাত ধরে তাকে এবং তার মাকে একসাথে এক দিন দেখা করিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে তিনি মায়ের সঙ্গে কথা বলে বলেন, “আম্মু, এটা দুনিয়ার জাহান্নাম,” যা তার মানসিক কষ্টের গভীরতা প্রকাশ করে।
মাহদী হাসান সুরভীর অভিজ্ঞতা শোনার পর সংশ্লিষ্ট অপরাধের দায়ী ব্যক্তিদের উন্মোচনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ বছর বয়সী এক মেয়ের ওপর করা অন্যায়কে ২১ বছর বয়সের মতো করে তুলেছে এবং ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিকে ৫০ কোটি টাকায় রূপান্তরিত করা আর্থিক জালিয়াতির দায়িত্বশীলদের প্রকাশ করা দরকার। তিনি এই ধরনের কুশীলবদের জাতির সামনে আনার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেন।
মাহদী নিজেও ৩ জানুয়ারি আটক হন এবং ৪ জানুয়ারি জামিন পান। তিনি হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায় অবস্থিত। তিনি অতিরিক্তভাবে বানিয়াচং থানার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঘটনা উল্লেখ করেন, যেখানে তারা থানা পুড়িয়ে দেয়ার কথা বলেন এবং এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেয়ার ইঙ্গিত দেন।
উভয় মামলার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। পুলিশ গ্রেপ্তারির সময়ের রেকর্ড ও রিমান্ডের নথি নিশ্চিত করেছে, তবে অভিযোগের প্রকৃত স্বরূপ ও প্রমাণের বিশদ এখনও তদন্তাধীন। আদালত আগামী সপ্তাহে উভয় মামলায় শুনানি নির্ধারণের কথা জানিয়েছে। মাহদী হাসানকে জামিনের শর্তে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির হতে হবে, আর তাহরিমা সুরভীর ক্ষেত্রে রিমান্ডের শর্তে অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই ঘটনাগুলোকে তাদের অধিকার ও ন্যায়বিচার সংগ্রামের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। সংগঠনটি আগামীতে আরও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভা চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে ছাত্র ও সাধারণ জনগণকে আইনি অধিকার ও মানবিক মর্যাদার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা যায়।



