খাগরাছড়ি জেলায় ৩০০-এর বেশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও সক্রিয় সদস্যরা বিএনপি-তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে পার্টির মিডিয়া ও পাবলিসিটি সেল প্রকাশিত ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তনটি সোমবার বিকেলে খাগরাছড়ি জেলায় বিএনপি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়। এনসিপি-র খাগরাছড়ি জেলা সংগঠন সচিব বিপ্লব ত্রিপুরা ও অন্যান্য নেতারা নতুন পার্টি গঠনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সময় বিএনপি-র খাগরাছড়ি জেলায় প্রার্থী এবং জেলা সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়ান উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেন। উপস্থিতদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজের প্রতিনিধিরাও ছিলেন, যারা নতুন রাজনৈতিক গঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
বিপ্লব ত্রিপুরা এবং সহ-সদস্য নীরূপম চক্রবর্তী একসাথে এনসিপি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিএনপি-র সঙ্গে যুক্ত হন। একই দিনে এনসিপি-র খাগরাছড়ি জেলা সংগঠন সচিব নূর আলমের নির্দেশে ত্রিপুরা ও চক্রবর্তীকে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। এছাড়াও সংগঠন সচিব অমরধন চক্রামা ও সহ-সদস্য আব্দুর রহমান ছায়াদকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে সব পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বহিষ্কারের নথিপত্র নূর আলম স্বাক্ষরিত চারটি পৃথক নোটিশে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পার্টি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে। নূর আলমের মতে, এই পদক্ষেপটি পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জরুরি ছিল।
বিএনপি-র খাগরাছড়ি জেলা মিডিয়া সেল একই দিনে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখ করেছে যে, নতুন যোগদানকারীরা পার্টির মূল নীতিমালা ও নির্বাচনী কৌশলকে সমর্থন করবে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন সদস্যদের স্বাগত জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে এনসিপি-র মুখপাত্র রাবিউল জিহাদ একই দিনে একটি প্রেস রিলিজে জানিয়ে দেন যে, তালিকাভুক্ত ৩০০ জনের মধ্যে কেবল চারজনকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে এবং বাকি নামগুলো কোনোভাবে এনসিপি-র সঙ্গে যুক্ত নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়টি নিয়ে পার্টি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে।
বিপ্লব ত্রিপুরা একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “এনসিপি-র এমন একটি জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করতে পারি না, যা আমরা ‘অধিনিবেশ বিরোধী’ হিসেবে বিবেচনা করি। তাই আমাদের অধিকাংশ নেতা ও সক্রিয় সদস্য বিএনপি-তে যোগদান করেছে।” তার এই বক্তব্যে পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও জাতীয় স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত মতবিরোধ স্পষ্ট হয়েছে।
বিএনপি-র জেলা সাধারণ সম্পাদক এমএন আবসারও একই সময়ে জানান যে, নতুন যোগদানকারী নেতারা পার্টির কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি যোগ করেন, “এটি আমাদের জন্য একটি নতুন শক্তি সংযোজন, যা নির্বাচনে আমাদের অবস্থানকে মজবুত করবে।”
নূর আলমের মতে, এনসিপি-র এই দাবি যে ৩০০ জন সদস্য বিএনপি-তে যোগ দিয়েছে, তা ভিত্তিহীন এবং গুজবের ভিত্তিতে তৈরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, পার্টির অভ্যন্তরে এমন কোনো তালিকা নেই যা এই সংখ্যাকে সমর্থন করে।
এনসিপি-র আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি পার্টি সত্যিই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে এটি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতে মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় পার্টি নিজেদের ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন অর্জনে মনোযোগ দেবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে খাগরাছড়ি জেলায় ভোটারদের মনোভাব কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, খাগরাছড়ি জেলায় রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং পার্টি সংযোগের এই পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে উভয় পক্ষের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



