মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার কঠোর নিরাপত্তা প্রধানকে লক্ষ্য তালিকায় যুক্ত করেছে, যাতে তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারেন। নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর interim প্রেসিডেন্ট রড্রিগেজকে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণে সহায়তা না করলে নিরাপত্তা প্রধানের ওপর চাপ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ডিয়োসদাদো কাবেলো, যিনি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রভাব রাখেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত, মাদুরোর নিকটতম সমর্থকদের মধ্যে অন্যতম। ট্রাম্প প্রশাসন তাকে অস্থায়ী শাসনকালে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নির্ভরশীল হিসেবে দেখলেও, তার দমনমূলক রেকর্ড এবং রড্রিগেজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাকে সম্ভাব্য বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা কাবেলোকে সহযোগিতা না করলে তার ওপর মাদুরোর মতোই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন। মাদুরো সম্প্রতি একটি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে গ্রেপ্তার হয়ে নিউ ইয়র্কে ‘নারকো-সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে বিচারাধীন। একই রকম শাস্তি কাবেলোর জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে, এমনকি তার জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কাবেলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে সরকার সমর্থক মোটরসাইকেল গোষ্ঠী, যাদের কোয়েলেক্টিভো নামে পরিচিত, রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এই গোষ্ঠীগুলি সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন দেখায় এবং তাদের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে তারা অন্য কর্মকর্তাদের সুরক্ষার আশ্বাস পায় কি না তার ওপর।
নিরাপত্তা প্রধানের পাশাপাশি রক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনোও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য তালিকায় রয়েছে। পাদ্রিনোও মাদুরোর মতোই মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তার ওপর বহু মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার নির্ধারিত।
মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে এই অভিযান এখনও চালু রয়েছে এবং শেষ হয়নি। তিনি বলছেন, এই প্রক্রিয়া আইন প্রয়োগের অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য চলমান।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে পাদ্রিনোর সহযোগিতা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তাই, উভয় কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় না হলে তাদের ওপর আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিসরে এই উন্নয়নগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য তালিকায় থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য পদচ্যুতি দেশীয় গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও শাসন কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ডেলসি রড্রিগেজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা মেনে চললে দেশীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে সক্ষম হবেন। অন্যদিকে, যদি তিনি এবং নিরাপত্তা প্রধানের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ে, তবে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত উদ্যোগ ভেনেজুয়েলার শাসন কাঠামোকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত, যেখানে কাবেলো ও পাদ্রিনোর ওপর চাপ বাড়িয়ে তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলাফল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল হবে।



