ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, রিপাবলিকানরা যদি এই নির্বাচনে জয় না পায়, তবে ডেমোক্র্যাটরা তাকে অভিশংসনের জন্য যথাযথ কারণ খুঁজে বের করবে, ফলে তিনি অভিশংসনের মুখোমুখি হবেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য রায়টার্সের রিপোর্ট অনুসারে, তিনি রিপাবলিকানদেরকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, কারণ তার মতে, এই জয় না হলে তার বহু এজেন্ডা—যেমন জেন্ডার, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা—বাধাগ্রস্ত হবে এবং কংগ্রেসের তদন্তের ঝুঁকি বাড়বে।
এজন্য তিনি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদেরকে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধগুলো একপাশে সরিয়ে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার ওপর মনোযোগ দিতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা এখন অপরিহার্য।
ট্রাম্পের মতে, ডেমোক্র্যাটরা যখন প্রেসিডেন্ট পদে জয়লাভ করবে, তখনই রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারে। তিনি এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রিপাবলিকানদেরই জনগণের মনোভাব জানার দায়িত্ব রয়েছে এবং তা তিনি নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণে জড়িত এক সামরিক অভিযানের স্মৃতি ট্রাম্পের মনে এখনও তাজা, তবে তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমান সময়ে তিনি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়সহ অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি। এই বিষয়গুলো তিনি পূর্বের ডেমোক্র্যাট শাসনকে দায়ী করে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের মতে, রিপাবলিকানরা তাদের প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরতে পারে, যা ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। তিনি এ বিষয়ে অতিরিক্ত বিশদে না গিয়ে মূল বিষয়েই সীমাবদ্ধ রাখেন।
সমাবেশে ট্রাম্প ৬ জানুয়ারি ২০২১-এ ক্যাপিটল আক্রমণের উল্লেখ করেন, যদিও তিনি সরাসরি কোনো দোষারোপ করেননি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ওই ঘটনার পঞ্চম বার্ষিকীতে রিপাবলিকানদের ইতিহাস মুছে ফেলার অভিযোগ তুলে তাদের সমালোচনা করেছে।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা যে স্থানে একত্রিত হয়েছিলেন, তা হল জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস, যা কংগ্রেসের অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান এবং কংগ্রেসই এর নামকরণ করেছে। ট্রাম্প গত বছরই এই ইনস্টিটিউটের বোর্ডে ডেমোক্র্যাটদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য অভিশংসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, রিপাবলিকানদেরকে একত্রে কাজ করে ভোটারদের কাছে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে ট্রাম্পের অভিশংসন ঝুঁকি কমে যাবে এবং তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। অন্যদিকে, হারের পরিণতি হিসেবে কংগ্রেসের তদন্ত এবং সম্ভাব্য অভিশংসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর, রিপাবলিকান নেতারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে: মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় না হলে রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে এবং অভিশংসনের সম্ভাবনা বাড়বে। এই পরিস্থিতি কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ গঠন এবং আমেরিকান রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



