ইরিশ অভিনেত্রী জেসি বাকলি, যিনি ২০০৮ সালে বিবিসির ট্যালেন্ট শো ‘I’d Do Anything’‑এ ন্যান্সি চরিত্রের জন্য প্রতিযোগিতা করে রানার‑আপ ছিলেন, সম্প্রতি প্রকাশ্যে জানান যে তিনি শো‑টিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
‘I’d Do Anything’ শোটি ২০০৮ সালে ব্রিটিশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়, যেখানে ওয়েস্ট এন্ডের ‘Oliver!’ নাটকের ন্যান্সি ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য অভিনেত্রী নির্বাচন করা হয়। শো‑টির লক্ষ্য ছিল তরুণ প্রতিভাদের মঞ্চে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করা, তবে বাকলির মতে এই প্রক্রিয়ায় তার প্রতি অনুপযুক্ত আচরণ করা হয়।
বাকলি উল্লেখ করেন, শো‑এর সময় তিনি নিজের শারীরিক গঠন ও বয়সের কারণে অতিরিক্ত শারীরিক সমালোচনার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, তখন তিনি মাত্র সতেরো বছর বয়সী ছিলেন এবং নিজের পরিচয় গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, ফলে এমন মন্তব্যগুলো তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
শো‑এর বিচারক ও অন্যান্য শিল্পী তার চেহারা নিয়ে মন্তব্য করেন, যার মধ্যে এক কোরিওগ্রাফার তাকে ‘আরও লেডিলাইক’ হতে এবং ছয় ইঞ্চি হিলের জুতা পরিধান করে নাচ শিখতে বলেছিলেন। এসব মন্তব্যকে বাকলি ‘শরীরের শেমিং’ ও ‘নারীসুলভতা শিক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বাকলির মতে, শো‑এর সময় তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন না এবং ডিপ্রেশন অনুভব করছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে ‘অবিচারপূর্ণ অবজেক্টিফিকেশন’ হিসেবে মনে হয়েছে, যা তার আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
শো‑এর পর থেকে বাকলি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি হলিউডের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং বর্তমান চলচ্চিত্র পুরস্কার মৌসুমে ‘Hamnet’ ছবিতে তার অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী পুরস্কারের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
বাকলি অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবনা প্রকাশ করে বলেন, তিনি এখনো সেই সময়ের নির্যাতনের পুরো মাত্রা বুঝতে পারেননি, তবে তা অনুভব করেই ছিলেন, যা তার জন্য কঠিন ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে কোনো তরুণী এই ধরনের ‘নির্যাতন’ের শিকার না হয়।
বিবিসি এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় জানায়, সংস্থা তার কর্মীদের জন্য দায়িত্বশীল যত্নের নীতি প্রয়োগ করে এবং দশকের পর দশক ধরে এই নীতিগুলো শক্তিশালী করেছে। সংস্থা আরও উল্লেখ করে, কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশকারী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও যত্নের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
বাকলি শো‑এর পর একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথাও উল্লেখ করেন, যদিও সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এই সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ার গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাকলির বর্তমান সাফল্য এবং তার অতীতের অভিজ্ঞতা দুটোই শিল্প জগতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তার কথা তরুণ শিল্পী ও দর্শকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করা যায়।
শো‑এর বিচারক ও প্রযোজকরা এখনো এই অভিযোগের ওপর কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি, তবে শিল্পে নৈতিক মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
বাকলি শেষ পর্যন্ত বলেন, তিনি আশা করেন যে ভবিষ্যতে কোনো তরুণীকে তার মতো নির্যাতনের মুখোমুখি হতে না হয় এবং শিল্পের পরিবেশ আরও সমান ও সম্মানজনক হবে।



