মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সামনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সরাসরি সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়ে তিনি প্যারিসকে ফরাসি প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম তিনগুণ পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন।
ট্রাম্পের মতে, তিনি ফরাসি নেতার সঙ্গে আলোচনা করে জানিয়েছেন যে আমেরিকানরা ফরাসি ভোক্তাদের তুলনায় প্রায় চৌদ্দ গুণ বেশি অর্থ প্রদান করে। এই পার্থক্যকে ভিত্তি করে তিনি ম্যাক্রোঁকে ফরাসি ওষুধের মূল্য বাড়াতে অনুরোধ করেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্পের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ফরাসি প্রেসক্রিপশন ওষুধের চার্জ বাড়াতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি নীতিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। তিনি এই ধারণা তুলে ধরেন যে শুল্কের হুমকি ফরাসি সরকারকে মূল্যবৃদ্ধির পথে বাধ্য করতে পারে।
ট্রাম্পের দাবির ভিত্তিতে, ম্যাক্রোঁ প্রথমে এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ট্রাম্পের মতে, পরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট তাকে একটি চুক্তির শর্তে সম্মতি দিতে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ম্যাক্রোঁ তাকে জানিয়েছেন যে তিনি তার প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম দুইশো শতাংশ বা ততোধিক বাড়াতে চান এবং ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন যে এই বিষয়টি জনসাধারণের সামনে প্রকাশ না করা হোক।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ফরাসি সরকার বা ম্যাক্রোঁ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্যারিসে সরকারী মুখপাত্রের কাছ থেকে কোনো মন্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, যদি অন্যান্য বিশ্বনেতারা ইচ্ছা করেন, তবে তারা তাদের দেশের ওষুধের দাম চারগুণ পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক ঔষধ মূল্য নির্ধারণের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন। উভয় দেশের বাণিজ্যিক সংলাপে ওষুধের মূল্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইতিমধ্যে সংবেদনশীল, এবং ট্রাম্পের এই প্রকাশনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনও এই দাবিগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানানো হয়েছে যে ফরাসি সরকার ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম বাড়ার বিষয়টি দীর্ঘদিনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কিছু বিশ্লেষক দেশীয় স্বাস্থ্য নীতি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করার সংকেত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, ফরাসি ঔষধ শিল্পের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মাবলী অনুযায়ী ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়, এবং কোনো একক দেশ অন্যকে শুল্কের মাধ্যমে চাপ দিতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামও ওষুধের শুল্ক ও মূল্য নির্ধারণের নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ফরাসি প্রেসিডেন্টের প্রতি সমালোচনা এবং ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য নীতির মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে বিকশিত হবে তা উভয় দেশের নীতি নির্ধারকদের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।



