27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমোদি ও নেতানিয়াহু আবার ফোনে কথা বললেন, কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন পদক্ষেপের আলোচনা

মোদি ও নেতানিয়াহু আবার ফোনে কথা বললেন, কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন পদক্ষেপের আলোচনা

ভারত ও ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রীরা, নরেন্দ্র মোদি এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, বুধবার ফোনে সংযোগ স্থাপন করে দু’দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার বিষয়টি আলোচনা করেছেন। এই সংলাপটি এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার, এবং প্রধানত দিল্লি-তেল আবিব দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের কাঠামো ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়কে কেন্দ্র করে হয়েছে।

মোদি নিজেই এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে এই কথোপকথনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে, নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ইসরায়েলি জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি আগামী বছরে ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংবদ্ধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

বক্তব্যের মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করার বিষয়ও উঠে এসেছে। মোদি ও নেতানিয়াহু উভয়েই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে, পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এই সংলাপের পূর্বে, ১০ ডিসেম্বর মোদি ও নেতানিয়াহু ফোনে যুক্ত ছিলেন, যেখানে গাজা অঞ্চলের পরিস্থিতি আলোচনার মূল বিষয় ছিল। গাজা সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার মধ্যে নিরাপত্তা ও মানবিক উদ্বেগের সমন্বয় ঘটেছিল।

ইসরায়েল ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই সময়ে নেতানিয়াহু ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

চলতি বছরের জুনে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলার ব্যাখ্যা ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতানিয়াহু মোদিকে অবহিত করার জন্য ফোনে সংযোগ স্থাপন করেন। এই আলোচনায় দু’দেশের নিরাপত্তা নীতি ও কৌশলগত স্বার্থের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোদি ও নেতানিয়াহুর ফোন কথোপকথনটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। নতুন দিল্লি-ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বের কাঠামোতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষই এই অংশীদারিত্বকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছে।

বিশেষত তেল আবিব প্রকল্পের অধীনে জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা উভয় সরকারই বিবেচনা করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও ভারতীয় বাজারের সংযোগ শক্তিশালী হয়ে, উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নত হতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায়, গাজা সংকট, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে কেন্দ্র করে দু’দেশের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। উভয় সরকারই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই ফোন কথোপকথনের ফলে, আগামী মাসগুলোতে দু’দেশের কূটনৈতিক মিশন ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফর ও যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধারাবাহিক সংলাপ ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ককে কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আরও গভীর করবে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রবেশদ্বার খুলে যাবে।

সারসংক্ষেপে, মোদি ও নেতানিয়াহুর এই ফোন কথোপকথন দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এই সমন্বয়কে ভিত্তি করে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যৌথ প্রকল্প এবং উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা উঁচুতে রয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments