সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাঙালি প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস ১৩৪ লক্ষ্য নিয়ে ৭ উইকেটে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে পরাজিত করে। নাসির হোসেন ৫০ বলের মধ্যে ৯০ রান করে নিজের ১৬ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ৯০ রান রেকর্ড গড়ে তোলেন, যা তার ১৫৭তম ম্যাচে অর্জিত।
ম্যাচের সূচনা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটিং দিয়ে হয়। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করা দলটি ১৩৩ রান তৈরি করে ছয় উইকেট হারায়। ৪০ রানে পাঁচটি উইকেট পড়ার পর, মাঝারি গতি দিয়ে চলা মোহাম্মদ নবী ও অধিনায়ক হায়দার আলি ষষ্ঠ উইকেটে একসাথে ১৩৩ রান যোগায়। নবী ৪২ রানে অবিচল থেকে শেষ পর্যন্ত অক্ষত থাকে, আর হায়দার দলের সর্বোচ্চ স্কোর ৪৭ রান করেন।
ঢাকা ক্যাপিটালসের শুরুর গতি তেমন না থাকলেও, রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন দুজনই দলীয় ১৪ রানে আউট হন। মামুন মাত্র ছয় বলের মধ্যে এক রান করে বিদায় নেন, আর গুরবাজ স্কোরে পৌঁছানোর আগেই মাঠ ছেড়ে দেন। তবুও, তৃতীয় ব্যাটার নাসির হোসেন দ্রুতই দলে আস্থা ফিরিয়ে আনেন। তিনি তৃতীয় নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মকভাবে ব্যাটিং শুরু করেন এবং ধারাবাহিক বাউন্ডারির মাধ্যমে রানের গতি বাড়িয়ে দেন।
নাসির মাত্র ২১ বলেই তার প্রথম ফিফটি সম্পন্ন করেন, যা এই সিজনের বিপিএল-এ সর্বোচ্চ দ্রুত অর্ধশতক রেকর্ড। পূর্বে কাইল মেয়ার্সের ২৩ বলের রেকর্ডকে অতিক্রম করে তিনি নতুন রেকর্ডধারী হন। ফিফটির পরেও তিনি গতি কমিয়ে না দিয়ে ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহ করেন। ইরফান শুক্কুর ১১ বলেই ১২ রান করে আউট হন, এরপর ইমাদ ওয়াসিম নাসিরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দ্রুত স্কোর বাড়িয়ে দেন।
অবশেষে নাসির ৫০ বলের মধ্যে ৯০ রান করে অক্ষত থাকেন, আর ওয়াসিম ১৬ বলেই ২৯ রান যোগ করেন। দুজনের যৌথ পারফরম্যান্সে ঢাকা ক্যাপিটালস ১৩৪ লক্ষ্য সহজে অর্জন করে এবং ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। নোয়াখালী এক্সপ্রেস পাঁচ ম্যাচের পরেও জয় না পেয়ে এখনও শূন্যে আটকে আছে, আর ঢাকা ক্যাপিটালস এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে তাদের দ্বিতীয় জয় পায়।
নাসিরের এই পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৬ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৫৭তম ম্যাচে প্রথমবার ৯০ রান করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার স্বীকৃত ক্যারিয়ারে দশম ফিফটি অর্জন করেন। পূর্বে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৮০ ছিল, যা এখন এই নতুন রেকর্ডে ছাপিয়ে গেছে। তার এই সাফল্য দলকে আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ টিমের পরবর্তী প্রতিপক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, যদিও নির্দিষ্ট মন্তব্যের সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য এখনো জয় অর্জনের পথ খুঁজে বের করা বাকি, এবং তাদের পরবর্তী ম্যাচে কৌশল পরিবর্তন করা প্রয়োজন হবে।
বিপিএল সিজনের এই পর্যায়ে দলগুলো প্রতিটি ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য লড়াই করছে, এবং নাসিরের এই বিশাল ইনিংস দলীয় জয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। পরবর্তী ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের শিডিউল এখনও নির্ধারিত, তবে এই জয় তাদের টুর্নামেন্টে অগ্রগতি বজায় রাখবে।



