27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদায়িত্ব ব্যর্থ পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষিত

দায়িত্ব ব্যর্থ পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষিত

ঢাকার এনজিও ব্যুরো সম্মেলন কক্ষে ৭ জানুয়ারি সকালেই তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ৮১টি সংস্থাকে নিবন্ধন করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্পষ্টভাবে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে এবার নিবন্ধন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের তৃতীয় চক্ষু হিসেবে কাজ করা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। কমিশনার সানাউল্লাহের মতে, পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তাদের কাজের মানদণ্ড পূরণ করলে কমিশন থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ার নতুন শর্তের মধ্যে সর্বনিম্ন বয়সসীমা ২১ বছর নির্ধারিত হয়েছে। তিনি অল্পবয়সী পর্যবেক্ষকদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই মানদণ্ডের লক্ষ্য হল পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নতুন নীতিমালা পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করবে। তারা উল্লেখ করেন, পর্যবেক্ষকদের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পেলে ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং নির্বাচন ফলাফলে বৈধতা নিশ্চিত হবে।

নির্বাচন কমিশন পূর্বে ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল, যার ফলে ৮১টি সংস্থা নির্বাচনের তৃতীয় চক্ষু হিসেবে কাজ করবে। এই সংস্থাগুলোকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণ, রিপোর্টিং এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করতে হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংস্থাগুলোকে পুনরায় নিবন্ধন না দেওয়া একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে সকল সংস্থাকে তাদের কাজের মান উন্নত করতে উৎসাহিত করবে। তিনি অতিরিক্তভাবে জানান, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

নিবন্ধন না পাওয়া সংস্থাগুলোকে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ থাকবে, তবে তা কঠোর মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। কমিশনারের মতে, ভবিষ্যতে কোনো সংস্থা যদি নির্ধারিত নীতি ও নৈতিক মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, তবে তা পুনরায় নিবন্ধন পাবে না।

নতুন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা এবং লজিস্টিক সমর্থন প্রদান করা হবে। এই সহায়তা তাদের কাজকে সহজতর করবে এবং ফলস্বরূপ পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার গুণগত মান বাড়বে।

অনুষ্ঠানের শেষে সানাউল্লাহ নিশ্চিত করেন, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নির্বাচনের সময় যে কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ক্ষমতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নীতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধের সম্ভাবনা কমে যাবে।

সামগ্রিকভাবে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কঠোর মানদণ্ড আরোপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি শক্তিশালী তৃতীয় চক্ষু গড়ে তুলতে চায়, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments