ঢাকা, ৭ জানুয়ারি – সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ বুধবার মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাঠে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা জানিয়ে জানান। এই স্টেডিয়ামটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর জন্য ক্রীড়া, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনমূলক সুবিধা প্রদান করবে, যা দেশের প্রথম ধরনের প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখিত স্টেডিয়ামটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে নির্মাণাধীন এবং ভবিষ্যতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন খেলাধুলা অনুশীলন করতে পারবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠ, জিমনেসিয়াম, থেরাপি সেন্টার এবং বিনোদনমূলক এলাকা একত্রে গঠন করা হবে, যাতে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সমন্বয় সাধন করা যায়।
বিশ্বব্যাপী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর জন্য ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক আয়োজনের প্রবণতা বাড়ছে; বাংলাদেশও এই দিক থেকে পদক্ষেপ নিচ্ছে। মুরশিদ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা তৈরি করে দেশের শিশুরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সক্ষম হবে এবং তাদের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল লক্ষ্য হল শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা। মুরশিদ এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, এই গোষ্ঠীর প্রতিভা ও মেধা বিকাশে সরকারী নীতি ও প্রকল্পের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, স্টেডিয়াম প্রকল্পটি এমন একটি পদক্ষেপ যা সরাসরি এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করবে।
প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে মুরশিদ উপদেষ্টা বলেন, এই অনুষ্ঠানটি কেবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রতিটি শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা ও মেধা প্রকাশের একটি মঞ্চ। তিনি যোগ করেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা যায়, যা শিক্ষার পাশাপাশি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।
উপদেষ্টা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “প্রতিবন্ধী” শব্দটি ব্যবহার না করে সকলকে সম্ভাবনাময় ও মেধাবী হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, কোনো মানুষই অক্ষম নয়; প্রত্যেকেরই নিজস্ব শক্তি রয়েছে এবং সঠিক পরিবেশে তা বিকশিত হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি স্টেডিয়ামের নকশা ও পরিচালনায় প্রতিফলিত হবে।
মুরশিদ আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যত্নশীলতা, ধৈর্য, জ্ঞান ও ভালোবাসা দিয়ে সেবা প্রদান করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দিন থেকে মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা মেনে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও একই মানদণ্ড বজায় রাখবে। এই নীতি অনুসারে স্টেডিয়াম প্রকল্পটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশকে সমাজের কল্যাণের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও মুরশিদ উপদেষ্টা আশাবাদী। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে দেশের ভিতরে একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করা সম্ভব, এবং নতুন স্টেডিয়াম সেই উদাহরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মুরশিদ উপদেষ্টা নিজেই পুরস্কার প্রদান করে অংশগ্রহণকারীদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি জানান। এই মুহূর্তটি শিশুরা তাদের অর্জন নিয়ে গর্বিত হওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।
অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্মসচিব) আয়েশা আক্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন, যারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্টেডিয়াম প্রকল্পের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়।



