চট্টগ্রাম বন্দর আজ ৫৭,৮৫৫ টন হলুদ কর্নের প্রথম ব্যাচ গ্রহণ করেছে, যা ২০১৮ সালের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসা প্রথম শিপমেন্ট। এই লোডের আগমন দেশের পোল্ট্রি ও গবাদি পশু খামারগুলোর জন্য নতুন সরবরাহের পথ খুলে দিয়েছে, বিশেষত ফিড মিলারদের জন্য।
কর্নটি উত্তর ডাকোটা, দক্ষিণ ডাকোটা ও মিনেসোটা রাজ্য থেকে ২০২৫‑২৬ ফসল মৌসুমে তোলা হয়েছে এবং ওয়াশিংটন রাজ্যের ভ্যাঙ্কুভার থেকে রপ্তানি করা হয়েছে। সবুজ শস্যের এই ব্যাচে উচ্চ প্রোটিন ও শক্তি ঘনত্ব রয়েছে, যা পোল্ট্রি ও গবাদি পশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণে উপযোগী।
দাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত বিবৃতিতে শিপমেন্টের উৎস, ফসলের বছর এবং গন্তব্য বন্দর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ এই রকম উচ্চ মানের শস্যকে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে পুনরায় পরিচয় করাতে আগ্রহী।
শিপমেন্টের গ্রহণে নাহার এগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং ন্যুরিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় ফিড মিলারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা কন্টেইনারের গুণমান, ডেলিভারি সময়সূচি এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বাংলাদেশের ফিড শিল্পে মার্কিন কর্নের প্রবেশের অর্থনৈতিক প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, উচ্চ মানের আমেরিকান কর্নের সরবরাহ স্থানীয় ফিডের গুণগত মান উন্নত করবে, যা পোল্ট্রি ও গবাদি পশুর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। দ্বিতীয়ত, একাধিক সরবরাহ উৎসের উপস্থিতি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দেবে, ফলে শিপমেন্টের দাম স্থিতিশীল হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ মূলত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপীয় দেশ থেকে কর্ন আমদানি করেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের শিপমেন্ট যুক্ত হওয়ায় আমদানির কাঠামো বৈচিত্র্যপূর্ণ হবে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি কমাবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি নীতি ও মুদ্রা নীতির পরিবর্তন সরাসরি শিপমেন্টের খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউনাইটেড গ্রেইন কর্পোরেশনের একটি কর্মকর্তা শিপমেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশকে আরও বেশি পরিমাণে আমেরিকান শস্য সরবরাহের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে গম, সয়াবিন এবং অন্যান্য শস্যের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি বাণিজ্যকে সমর্থন করবে।
স্থানীয় ফিড মিলারদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্নের প্রবেশ স্থানীয় কর্নের দামকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি আমদানি মূল্যের পার্থক্য উল্লেখযোগ্য হয়, তবে দেশীয় উৎপাদনকারীদের জন্য মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে, উচ্চ মানের আমদানি শিপমেন্টের উপস্থিতি স্থানীয় গুণমানের মানদণ্ডকে উঁচুতে তুলতে পারে।
তবে, কিছু ঝুঁকি উপেক্ষা করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি নীতি, শিপিং খরচের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন শিপমেন্টের সময়সূচি ও মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, মৌসুমী চাহিদা ও স্থানীয় লজিস্টিক অবকাঠামোর সক্ষমতা শিপমেন্টের কার্যকর বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, আট বছর পর মার্কিন কর্নের এই প্রথম শিপমেন্ট বাংলাদেশে ফিড শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। উচ্চ মানের শস্যের সরবরাহ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য এবং সম্ভাব্য মূল্য প্রতিযোগিতা দেশের পোল্ট্রি ও গবাদি পশু উৎপাদনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শস্য রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।



