লালমনিরহাটের হাটিবন্ধা উপজেলা দোইখাওয়া সীমান্তে রাত ১২টা ১০ মিনিটে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। সীমান্ত রক্ষার জন্য নিয়মিত গশতকারী দলটি ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছায়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হলেন গোটামারী গ্রাম, হাটিবন্ধা উপজেলার ২২ বছর বয়সী রনি ইসলাম।
বিবিজি দলটি গুলির দিক থেকে দৌড়ে এসে কয়েকজনকে দৌড়াতে দেখেছে, যারা আহত ব্যক্তিকে স্থান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। সীমান্ত রক্ষাকারীকে দেখেই তারা তৎক্ষণাৎ পিছু হটিয়ে পালিয়ে যায় এবং আহতকে একা রেখে যায়।
বিবিজি সদস্যরা দ্রুত আহত রনি ইসলামকে উদ্ধার করে নিকটস্থ রঙপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জরুরি সেবা প্রদান করা হয় এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, রনি ইসলামকে গুলির ফলে পা গুলিতে আঘাত লেগেছে। চিকিৎসা চলমান থাকায় তার অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
বিবিজি ১৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেটারেল মেজর মেহেদি ইমাম জানান, রনি ইসলাম পূর্বে ২২ ডিসেম্বর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী (বিএসএফ) কর্তৃক পেলেট গুলি দিয়ে আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি সীমান্ত পারাপারে অবৈধ পণ্য পরিবহনের সন্দেহে নজরে ছিলেন।
অনুসন্ধানকারী দল রনি ইসলামের দীর্ঘদিনের মাদক ও গবাদি পশু পাচার কার্যকলাপের তথ্য সংগ্রহ করেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি ভারত থেকে গবাদি পশু ও অবৈধ মাদকদ্রব্যের গোপন পরিবহন ও বিক্রয়ে জড়িত ছিলেন।
বিবিজি কর্তৃপক্ষ রনি ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে তার দায়িত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
গুলির উৎস সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিবিজি অফিসাররা ঘটনাস্থলে গুলির দিক ও গুলির ক্যালিবার নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গশতকারী দলটি গুলির সময়সীমা ও সম্ভাব্য শুটারদের সনাক্ত করতে অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাবে। তদন্তে দেখা যাবে, গুলি কি সীমান্ত পারাপারকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ফল নাকি অন্য কোনো কারণের জন্য গুলি করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
বিবিজি কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপ রোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং কোনো অপরাধীকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার করা হবে।



