ঢাকার সেগুনবাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটে বুধবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আয়োজন করা শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান দেশের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে মত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রতি মারা যাওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।
মঈন খান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের রক্তে রয়েছে রাজনীতি। তাদের রক্ত রয়েছে গণতন্ত্র। কাজেই বাংলাদেশকে কোনো শক্তি বা পরাশক্তি বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে দেশের রাজনৈতিক গঠন কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপে বদলানো সম্ভব নয়।
তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “২০০৮ সালে দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে এই নির্বাচনটি আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এমন একটি শক্তি কাজ করেছিল, যারা বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি।” মঈন খান আরও যোগ করেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়। প্রতিটি নির্বাচনে সবকটি আসনে জয়ী হয়ে জনপ্রিয়তার প্রমাণও দিয়েছেন। এটা ছিল তার প্রতি জনগণের ভালোবাসা। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারক এবং বাহক হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।”
শোকসভায় উপস্থিত জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান বেগম জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি স্মরণ করেন, “সর্বদা দেশনেত্রী একটা কথাই বলতেন- ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নাই, এটাই (বাংলাদেশ) আমার ঠিকানা। এই দেশ, এই দেশের মাটি-মানুষই আমার সবকিছু। কাজেই আমি দেশের বাইরে যাবো না।'”
অনুষ্ঠানে জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস.এম. শাহাদাতের সঞ্চালনায় বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা মতামত প্রকাশ করেন। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এম.এন. শাওন সাদেকী, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস ও সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, এনডিপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল ও মহাসচিব জামিল আহমেদ, গণদলের মহাসচিব সৈয়দ আবু সাঈদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব রেজওয়ান মোর্তজা, জাগপার মহাসচিব জাকির হোসেন রিয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সব অংশগ্রহণকারী একমত যে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি তার অবিচল প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তারা উল্লেখ করেন যে, তার নেতৃত্বের সময়ে গৃহীত নীতি ও জনমত গঠন আজও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
মঈন খান শোকসভার শেষে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে কোনো একক শক্তি বা বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা বদলানো সম্ভব নয়। তিনি দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শোকসভা শেষে উপস্থিত সবাই একসাথে দোয়া পাঠ করেন এবং বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করেন। অনুষ্ঠানটি সমাপ্তির পর অংশগ্রহণকারীরা পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপি ও তার জোটের সদস্যরা রাজনৈতিক সংহতি জোরদার করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য ভিত্তি স্থাপন করছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের সমাবেশ পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান আবারও জোর দিয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা একসাথে কাজ না করি, তবে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়বে।”
শোকসভা শেষে উপস্থিত সকল নেতা ও সদস্য একে অপরকে সমর্থন জানিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এভাবে, বেগম জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন এক সংহতি ও দৃঢ়তা তৈরি করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।



