পঞ্চগড়-১ আসনের ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী সারজিস আলম ৭ জানুয়ারি বিকেলে পঞ্চগড়ের লিচুতলা এলাকায় এনসিপি জেলার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হলফনামায় আয়কর রিটার্নের তথ্যের ভুল স্বীকার করেন। তিনি জানান, ট্যাক্স রিটার্নে ৯ লক্ষ টাকা বদলে ২৮ লক্ষ টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা তার আইনজীবীর অনিচ্ছাকৃত টাইপিং ভুলের ফলে ঘটেছিল।
ভুলটি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করেন। সংশোধনটি দ্রুত সম্পন্ন হয়ে হলফনামায় সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়েছে।
এই বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মিডিয়া ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার পর আলমের এই ব্যাখ্যা প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যের অসঙ্গতি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য বহন করে।
সারজিস আলম আওয়ামী লীগের প্রতি অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, দলটি তার বিরুদ্ধে পেইড প্রোপাগান্ডা সেল চালিয়ে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন যে, তার বিরুদ্ধে এমন রকম গুজব ছড়ানো হয়েছে যে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে নিজের গাড়িতে সাহায্য করেছেন।
আলমের মতে, “যারা আমাদের পেলে মাথা আলাদা করে দেবে, তাদের আমরা কেন সহযোগিতা করব?” এই মন্তব্যে তিনি সরকারের বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি তার দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন।
বিএনপির প্রতি তিনি সমানভাবে সমালোচনা করেন, বলেন দলটি বর্তমানে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে, কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে—যা তিনি অতীতে আওয়ামী লীগ করেছিল বলে উল্লেখ করেন।
পেশাগত দিক থেকে আলম জানান, তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহের ব্যবসা চালান এবং কোনো তথ্য গোপন করেননি। হলফনামায় প্রকাশিত সব তথ্যই বাস্তব এবং সত্য।
স্ত্রীর সম্পদ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, সদ্য বিবাহিত হওয়ায় তার স্ত্রীর নামে কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ নেই। তিনি নিজে এখনও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন, আর তার স্ত্রী গৃহিণী, কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত নন।
আলমের এই বিবৃতি নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করছেন। তিনি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবে এই সংশোধন প্রক্রিয়া তার স্বচ্ছতা ও আইনগত মানদণ্ডের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই বিষয়টি ব্যবহার করে তার নৈতিকতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে এই ধরনের বিতর্ক প্রায়ই ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সারজিস আলমের মন্তব্যের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এনসিপি দল তার প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং নির্বাচনী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সকল প্রয়োজনীয় নথি আপডেট করবে। ভোটারদের কাছে তিনি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।



