গু্লশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে আজ দুপুর ২টায় মীর আরশাদুল হক, যিনি পূর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যৌথ সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির (বিএনপি) সদস্য হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। তার এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে সদস্যপদ ফরম জমা দেন, যা পার্টির গঠনমূলক কাঠামোর মধ্যে তার নতুন অবস্থানকে চিহ্নিত করে।
বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমানের সঙ্গে হক আজকের সকালেই ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারে হক তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারিক রহমানের সঙ্গে এই বৈঠকটি হকের নতুন পার্টিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সদস্যপদ ফরম জমা দেওয়ার সময় হক সরাসরি মির্জা ফখরুলের হাতে ফরমটি হস্তান্তর করেন। জমা দেওয়ার সময় পার্টির গৃহীত নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। জমা প্রক্রিয়ার পরে হককে পার্টির সদস্যপদ কার্ড প্রদান করা হয় এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির প্রাইমারি সদস্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
হক পূর্বে এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ২৫ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যা পার্টির অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ধরা হয়। তার পদত্যাগের পর থেকে তিনি রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও নতুন মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক ছিলেন।
গত দুই সপ্তাহে এনসিপি থেকে অন্তত পনেরোজন জ্যেষ্ঠ নেতা দল ছেড়েছেন। এই নেতাদের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ইশতেহার কমিটি এবং নীতি ও গবেষণা শাখার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। তাদের প্রস্থানের পেছনে মূল কারণ হিসেবে পার্টির জামায়াত-ই-ইসলাম নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে যোগদানের সিদ্ধান্তকে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা বহু সদস্যের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
এনসিপি যে জোটে যুক্ত হতে চেয়েছে, তা ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তবে জোটের অংশীদার হিসেবে জামায়াত-ই-ইসলামকে গ্রহণের সিদ্ধান্তটি পার্টির অভ্যন্তরে মতবিরোধের জন্ম দেয়। ফলে বহু জ্যেষ্ঠ নেতা পার্টির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনতা অনুভব করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
মীর আরশাদুল হকের বিএনপিতে যোগদান এনসিপির এই সংকটের সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সঙ্কেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হকের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের প্রবেশে বিএনপি তার মানবসম্পদ শক্তি বাড়াতে সক্ষম হবে এবং নির্বাচনী মঞ্চে তার প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা বাড়বে। একই সঙ্গে এনসিপি তার নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
বিএনপি নেতৃত্ব হকের যোগদানের বিষয়ে জানিয়েছে যে, তিনি পার্টির নীতি ও লক্ষ্যবস্তুতে অবদান রাখবেন এবং আসন্ন নির্বাচনে পার্টির প্রচারণা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া, হকের অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে পার্টি তার ভিত্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে হকের স্থানান্তর দুটি দিক থেকে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে, এনসিপি তার অভ্যন্তরীণ সঙ্কট সমাধানে নতুন নেতৃত্ব খুঁজে পেতে পারে; অন্যদিকে, বিএনপি হকের যোগদানের মাধ্যমে তার সংগঠনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করে নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের তুলনায় সুবিধা অর্জন করতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো আগামী কয়েক মাসে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



