লিওনেল মেসি ২০২৬ সালে ব্যস্ত সূচি নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র‑মেক্সিকো‑কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলছে। এই বছর তার পেশাদার ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব দুটোই শীর্ষে থাকবে, এ কথা তিনি সম্প্রতি জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিতে প্রকাশ করেছেন। বিশ্বফুটবলের অন্যতম শীর্ষ তারকা হিসেবে তার পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং মেসি এই বছরকে তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ইন্টারভিউতে মেসি পরিবারে ফুটবলের উপস্থিতি নিয়ে কথা বললেন। তিনি জানান, তার বাড়িতে বলখেলা সবসময়ই চলতে থাকে, তবে বাবা-মা বাড়ির ভিতরে অতিরিক্ত বলখেলা সীমিত রাখেন। “ঘরে খুব বেশি বল খেলতে দিই না,” তিনি হেসে বললেন, “স্কুল শেষ হলে আমরা সরাসরি ক্লাবে যাই, আর সময় পেলেই বলের সঙ্গে আবার দেখা হয়।” এই নিয়মটি তার সন্তানদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে তিনি যোগ করেন।
মেসি নিজের স্বভাব সম্পর্কে স্বীকার করেন যে তিনি খুবই গুছানো মানুষ। তিনি বলেন, “আমার জিনিস কেউ নাড়াচাড়া করুক, এটা আমি পছন্দ করি না। সবকিছু কোথায় আছে, সেটা আমার জানা থাকতে হয়। ছোটবেলা থেকেই এমনই ছিল।” এই গঠনমূলক মনোভাব তাকে মাঠে ও মাঠের বাইরে সমানভাবে কার্যকর করে তুলেছে। তার এই গুণাবলি তার সহকর্মী থিয়াগো ও সিরোও ভাগ করে নেয়, যাদেরও একই রকম সংগঠিত স্বভাবের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে মেসি স্পষ্ট করে বললেন, তিনি এখনো চ্যাটজিপিটি বা অন্য কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক টুল ব্যবহার করেন না। “এটা নিয়ে আমি কোনো বিরোধী নই, তবে এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি,” তিনি মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যদিও আধুনিক প্রযুক্তি ফুটবলে বিশ্লেষণ ও প্রশিক্ষণে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে, মেসি এখনও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নিতে পছন্দ করেন।
ইন্টার মায়ামিতে তার বর্তমান মৌসুমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ক্লাবের কোচের নির্দেশে মেসি নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নিচ্ছেন এবং দলের আক্রমণাত্মক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার উপস্থিতি দলের আক্রমণকে আরও বহুমুখী করে তুলেছে, এবং ভক্তরা প্রত্যাশা করছেন যে তিনি লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে গেম-চেঞ্জার পারফরম্যান্স দেখাবেন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্যও মেসি ব্যস্ত সময়সূচি বজায় রেখেছেন। বিশ্বকাপের পূর্বে দলটি একাধিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেবে, যেখানে তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেবেন। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া তার প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালে তিনি ব্যক্তিগত ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশ্বকাপের আয়োজনকারী দেশগুলো—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা—এতে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো বড় দর্শকসীমা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেসি উল্লেখ করেছেন, এই তিনটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও ভক্তসংখ্যা তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে, তবে তিনি ইতিমধ্যে মানসিকভাবে প্রস্তুত। তার নেতৃত্বে দলটি গ্রুপ পর্যায়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্যে কাজ করবে, এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষের দিকে পৌঁছাচ্ছেন, তবুও তিনি এখনও নিজের গতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট। পরিবারিক সমর্থন, গুছানো স্বভাব এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা—all এই বিষয়গুলো তাকে মাঠের বাইরে সমানভাবে দৃঢ় রাখে। তিনি বলেন, “ফুটবল আমার জীবনের অঙ্গ, তবে পরিবার ও ব্যক্তিগত নীতি আমাকে সমন্বিত রাখে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী মাসগুলোতে মেসি ইন্টার মায়ামির সঙ্গে লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অংশ নেবেন, এবং একই সময়ে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন। তার সময়সূচি দু’টি বড় মঞ্চের মধ্যে সমন্বয় করে সাজানো হয়েছে, যা তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে। ভক্তরা তার পারফরম্যান্সের জন্য উন্মুখ, এবং তিনি নিজের দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ দায়িত্বশীলতা দেখিয়ে চলেছেন।
সারসংক্ষেপে, মেসি ২০২৬ সালে ক্লাব ও জাতীয় দলের উভয় দিকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পরিবারে ফুটবলের উপস্থিতি, গুছানো স্বভাব এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা—এই সব গুণাবলি তাকে মাঠের বাইরে ও ভিতরে সমানভাবে শক্তিশালী করে তুলেছে। তার এই মনোভাব ও প্রস্তুতি বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনার জন্য আশার আলো জ্বালাবে, এবং ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার পারফরম্যান্স ক্লাবের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হবে।



