বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানকে গণতন্ত্রের নতুন টর্চ বেয়ারার হিসেবে চিহ্নিত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশাল জনসমাগমের মধ্যে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা দলের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
শোকসভা ও দোয়া মাহফিলটি জিয়া পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়, পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিতিরা শান্তিপূর্ণভাবে শোক প্রকাশ করে, যা জনগণের হৃদয়ে জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।
অমীর খসরু উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার হাতে শুরু হওয়া গণতন্ত্রের মশাল দীর্ঘ সময় খালেদা জিয়া নিজে বহন করেছেন। এখন সেই মশাল তারেক রহমানের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণের দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, এই হস্তান্তর কেবল নামের পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
খালেদা জিয়া, যিনি একসময় দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময় আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগে কাটিয়েছেন। তিনি কখনো কোনো স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে আপস করেননি এবং স্বতন্ত্রভাবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষায় লড়াই চালিয়ে গেছেন। অমীর খসরু জোর দিয়ে বলেন, জিয়ার ত্যাগের পরেও তার আদর্শ আজও দেশের রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি।
অমীর খসরু অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, যারা রাজনৈতিক সংকটে পালিয়ে গেছেন বা আপসের পথে চলে গেছেন, তারা দেশের স্বার্থে কাজ করেনি। তিনি একে একে তাদের সমালোচনা করে বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করেছে। অন্যদিকে, এক-ইলেভেনের সময় (২০০১‑২০০৬) কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিরা জিয়ার আদর্শকে সমর্থন করে স্বৈরাচারী শাসনের বিরোধিতা করেছে, যদিও তারা ঐ সময়ে কিছু সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
একই আলোচনায় অমীর খসরু জিয়া কতদিন ক্ষমতায় ছিলেন তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিয়া মাত্র কয়েক মাসের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে তার রাজনৈতিক কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি আন্দোলন ও ত্যাগের মাধ্যমে গড়ে তোলেন। তার দীর্ঘকালীন সংগ্রাম স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে অবিচলিত প্রতিরোধের উদাহরণ।
শোকসভায় উপস্থিত মানুষের বিশাল সংখ্যা, বিশেষত নারী ও যুবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, জিয়ার প্রতি জনসাধারণের গভীর স্নেহের প্রমাণ। অমীর খসরু উল্লেখ করেন, এই উপস্থিতি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে জিয়ার প্রতি থাকা ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ। শোকের সময় সবাই শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফিরে গেছেন, যা জিয়ার ত্যাগের প্রতিফলন।
অমীর খসরু জিয়ার সামাজিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি নারী শিক্ষার প্রসার, দরিদ্র শিশুর শিক্ষার সুযোগ, উপবৃত্তি ও খাদ্য বিনিময়ে শিক্ষার উদ্যোগ, কৃষক-শ্রমিকের কল্যাণে করা কাজগুলোকে ইতিহাসে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন। এসব কাজের মাধ্যমে জিয়া দেশের নিম্নবিত্তের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অমীর খসরু বিশদে বলেন। তিনি একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসার পাশাপাশি অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে, যাতে উন্নয়নের সুবিধা প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলেন, সরকারকে ন্যায়সঙ্গত নীতি, স্বচ্ছতা ও জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
অমীর খসরু আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, বরং দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোকে গণতান্ত্রিক নীতি অনুযায়ী পুনর্গঠন করা। তিনি বলেন, এই কাজের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে একত্রে কাজ করতে হবে এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা থেকে দূরে থাকতে হবে।
শোকসভা শেষে উপস্থিতরা একত্রে দোয়া পাঠ করেন এবং জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করেন। অমীর খসরু শেষ কথা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে সকলের ঐক্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন, এবং গণতন্ত্রের মশালকে সঠিক হাতে রেখে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা উচিত। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পথে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।



