ভারতীয় ক্রীড়া উপস্থাপক রিধিমা পাঠক গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) উপস্থাপক প্যানেল থেকে বাদ পড়েননি; বরং নিজস্ব সিদ্ধান্তে প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ৬ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে যে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে যে তাকে প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, “গত কয়েক ঘণ্টায় এমন একটি গল্প ছড়ানো হয়েছে যে আমাকে বিপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা সত্য নয়। আমি নিজেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়িয়েছি।”
রিধিমা পাঠক তার বক্তব্যে দেশপ্রেমের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে দেশই সবার আগে, সব সময়।” এই মন্তব্য তার দেশের প্রতি অটুট সমর্থনকে তুলে ধরে, যা সাম্প্রতিক ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
উল্লেখযোগ্য যে, রিধিমা পাঠক তার ক্যারিয়ার জুড়ে ক্রিকেটের প্রতি গভীর সম্মান ও নৈতিকতার পক্ষে দাঁড়িয়ে এসেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সততা, সম্মান ও আবেগ নিয়ে বহু বছর ধরে এই খেলাকে সেবা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি সবসময়ই নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং খেলাটির মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকব।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, একক দায়িত্বের চেয়ে পুরো ক্রিকেটকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। “কোনো একক দায়িত্বের চেয়ে ক্রিকেট খেলাটাকেই আমি বেশি গুরুত্ব দিই,” এই কথায় তিনি তার কাজের মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরেছেন।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রিধিমা পাঠক লিখেছেন, “যারা সমর্থন জানিয়ে যোগাযোগ করেছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ক্রিকেট সত্যটাই প্রাপ্য। ব্যস। আমার পক্ষ থেকে আর কোনো মন্তব্য নেই।” এই বাক্যটি তার সংযমপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য না করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি। উভয় দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ক্রিকেটে।
সম্প্রতি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ, আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া এবং বিসিসিআইয়ের হস্তক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধ তীব্রতর হয়েছে। এই বিষয়গুলো দু’দেশের ক্রীড়া সহযোগিতাকে তলানিতে নামিয়ে দিয়েছে।
মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল বাদ পড়া এবং বিসিসিআইয়ের হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো রিধিমা পাঠকের মন্তব্যে সরাসরি উল্লেখ না করা সত্ত্বেও, তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করেছে। তিনি যে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার কথা বলেছেন, তা এই বিস্তৃত বিরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা যায়।
বিপিএল উপস্থাপক প্যানেল থেকে রিধিমা পাঠকের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, তবে এটি ক্রীড়া সম্প্রদায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, তবে রিধিমা পাঠক স্পষ্টভাবে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে দূরে থাকতে চান।
বিপিএল সংগঠন এখনও রিধিমা পাঠকের প্যানেল থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে তার স্বেচ্ছা পদত্যাগের ঘোষণার পর থেকে, লিগের অন্যান্য উপস্থাপকদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালু হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, রিধিমা পাঠক স্বেচ্ছায় বিপিএল উপস্থাপক প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং তার পোস্টে দেশপ্রেম, নৈতিকতা এবং ক্রিকেটের প্রতি অটুট সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক চাপের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবনতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে বিপিএলের পরবর্তী ম্যাচের সূচি ও অন্যান্য উপস্থাপকদের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট সংবাদে তা আপডেট করা হবে।



