জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদত্যাগী নেতা মীর আরশাদুল হক বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তৎক্ষণাত দলীয় সদস্যপদ গ্রহণ করেন। তারেক রহমানের সঙ্গে প্রায় দশ মিনিটের আলাপের পর তিনি দলীয় দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দেশের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আরশাদুল হক দুপুর দুইটার দিকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় ফরম পূরণ করেন। ফরমটি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তিনি নতুন দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত বলে জানান।
সাক্ষাতের সময় আরশাদুল হক উল্লেখ করেন, তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য একমাত্র তারেক রহমানের পরিকল্পনা স্পষ্ট বলে মনে করেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশ নিতে চান। তারেক রহমানও তাকে স্বাগত জানিয়ে দলের ভবিষ্যৎ গঠনে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব আরশাদুল হককে তরুণ সমাজের সঙ্গে কাজ করার দায়িত্ব দেন এবং তিনি এই দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক বলে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, তা আমি সম্পূর্ণভাবে পালন করব।
আরশাদুল হক এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য এবং মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। তদুপরি, তিনি এনসিপির পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়ে তিনি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন ভূমিকা গ্রহণ করেন।
শিক্ষা জীবনে আরশাদুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সাবেক সহসভাপতি ছিলেন এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন-প্রতিবাদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তার ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সংগঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ করে তুলেছে।
বিএনপির জন্য আরশাদুল হকের যোগদান অভিজ্ঞ সংগঠক ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞের সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে। তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং এনসিপিতে গড়ে তোলা নেটওয়ার্ক দলীয় কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ভবিষ্যতে আরশাদুল হক তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয় এবং মিডিয়া কৌশল উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন, যা বিএনপির নির্বাচনী প্রচারকে সমর্থন করবে। তার রাজনৈতিক যাত্রা এখনো নতুন মোড়ে, তবে তার অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক দলীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পদক্ষেপের ফলে বিএনপি তার সংগঠনগত কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে এবং দেশের পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে নতুন শক্তি সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।



