চট্টগ্রাম‑কাপ্তাই সড়কের টাকতার পুল এলাকায় গত রাত প্রায় ৯ টায় একটি বাস এবং একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি ধাক্কা ঘটায় দুই কিশোরের প্রাণ ত্যাগ হয়। দুর্ঘটনা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, দক্ষিণ রাজনগর ইউনিয়নের টাকতার পুলে সংঘটিত হয় এবং স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
মৃতদেহের পরিচয় পাওয়া যায় ১৭ বছর বয়সী আবু সুফিয়ান আরমান এবং ১৬ বছর বয়সী মোঃ আকিবের। আরমানের পিতা মোঃ কামাল ভান্ডারী, আবিদ পাড়া, ওয়ার্ড‑৩-এ বসবাস করেন; আর আকিবের পিতা ওসমান গনি, হাজি বাড়ি, আলামশা পাড়া, ওয়ার্ড‑৭-এ বাস করেন। উভয়ই ক্লাস নয়ের শিক্ষার্থী, আরমান ধামাইরহাট হজরত শাহ সুফি সাঈদ আহমেদ সুন্নিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আকিব রাজভূবন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী।
দুপুরের পরেই রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মোঃ আরমান হোসেন জানান, আরমানের দেহ ঘটনাস্থলেই পাওয়া যায় এবং তা থানার হ্যান্ডলিং রুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আকিবকে তৎক্ষণাৎ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেও তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং চিকিৎসা চলাকালীনই তার প্রাণ ত্যাগ হয়।
পুলিশের মতে, দুজন শিক্ষার্থী যে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল তা বাসের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হয়ে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনা ঘটার সময় রাস্তায় দৃশ্যমানতা কম ছিল এবং উভয় যানই উচ্চ গতিতে চলছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গৃহস্থালির লোকজন এবং পথচারীরা তৎক্ষণাৎ সাহায্যের জন্য ডাক দিলেন, তবে গতি ও আঘাতের তীব্রতা এমন ছিল যে দুজনই গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছায়।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ঘটনাটির জন্য অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। থানা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের জন্য রেকর্ডেড ডিভাইসের তথ্য, রাস্তায় উপস্থিত সিভিল ক্যামেরা ফুটেজ এবং সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনও দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুত রাস্তায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাড়িয়ে দেয় এবং রাঙ্গুনিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গতি সীমা ও নিরাপত্তা চিহ্নাবলী পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেয়। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য পিতামাতাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় গতি কমাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই দুজন কিশোরের মৃত্যুর পর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শোক প্রকাশ করেছে। মাদ্রাসা ও হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দুজনের পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জানিয়ে সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি জানান। স্থানীয় সমাজও এই ট্র্যাজেডি নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন দাবি করে।
অধিক তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীর আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে থানা তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে, রাঙ্গুনিয়া থানার তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ড্রাইভারের লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন যাচাই এবং রেকর্ডেড ডেটা বিশ্লেষণ করে মূল কারণ নির্ণয়ে কাজ করছে।
এই দুর্ঘটনা রোড সেফটি সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় গতি নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, রোডের অবস্থা, আলো ব্যবস্থা এবং যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন দিক থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ট্র্যাজেডি রোধ করা যায়।



