ব্রিটেনের সেন্ট মার্কস ন্যাশনাল বাওয়েল হাসপাতালের গবেষকরা শতাব্দী পুরনো ক্যান্সার টিস্যু নমুনা ব্যবহার করে তরুণ বয়সের রোগীদের মধ্যে বাওয়েল ক্যান্সার বৃদ্ধির পেছনের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এই গবেষণার লক্ষ্য হল অতীতের নমুনা ও আধুনিক প্রযুক্তি একত্রে বিশ্লেষণ করে রোগের উৎপত্তি ও পরিবর্তন ধারা চিহ্নিত করা।
সেন্ট মার্কসের বেসমেন্টে সংরক্ষিত দশ হাজারেরও বেশি টিউমার নমুনা এখন জেনেটিক, মাইক্রোবায়োলজি ও পরিবেশগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গবেষকরা প্রত্যেক নমুনার জেনেটিক মিউটেশন, মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাবের রেকর্ড তুলনা করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগের বৈশিষ্ট্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তা নির্ণয় করতে চান।
বাওয়েল ক্যান্সার এখনও প্রধানত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়, তবে সাম্প্রতিক দশকে তরুণ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে ১৯৯০-এর দশকের শুরুর পর থেকে ২৪ বছরের নিচে বাওয়েল ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সের গ্রুপে ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। এই প্রবণতা বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তবে কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
একজন ২৭ বছর বয়সী তরুণী, হলি, এই রোগের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রথমে পেটের ফাঁপা ও ওজন কমে যাওয়া লক্ষণগুলোকে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বলে ভেবেছিলেন, কিন্তু অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। ২৩ বছর বয়সে তাকে অগ্রসর বাওয়েল ক্যান্সার নির্ণয় করা হয় এবং তীব্র কেমোথেরাপি শুরু করা হয়। চিকিৎসার ফলে তিনি স্টোমা স্থাপন করাতে বাধ্য হন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। তিন বছরেরও বেশি সময় ক্যান্সার-মুক্ত থাকা সত্ত্বেও, তিনি এখন বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে কখনও কখনও রোগের শুরুর বয়সের কারণে মানসিক কষ্টের কথা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত কোনো একক কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি। ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তন, বায়ু দূষণ এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ—all এই বিষয়গুলো সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে কোনটি প্রধান ভূমিকা পালন করে তা নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সেন্ট মার্কসের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. কেভিন মনাহান উল্লেখ করেন, “বয়স ৫০ বছরের নিচে বাওয়েল ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী বাড়ছে, এবং এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিচ্ছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রোগ প্রতিরোধের কার্যকর পদ্ধতি বিকাশ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে তরুণদের মধ্যে এই রোগের হার কমে।
এই গবেষণার ফলাফল যদি সফল হয়, তবে অতীতের নমুনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ বয়সে রোগের ঝুঁকি কমাতে স্ক্রিনিং নীতি, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাওয়েল ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং লক্ষণগুলোকে সময়মতো সনাক্ত করা এখনই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি পেটের অস্বাভাবিক ফাঁপা, অনিয়মিত ওজন হ্রাস বা দীর্ঘস্থায়ী পেটের ব্যথা অনুভব করেন, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। ভবিষ্যতে গবেষণার অগ্রগতি কীভাবে রোগের পূর্বাভাস ও প্রতিরোধে সহায়তা করবে, তা সময়ই বলবে।



