জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে শেয়ার হারাচ্ছে, কারণ চীনা প্রতিযোগীরা স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতার ফলে থাইল্যান্ডে জাপানি কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন কমিয়ে নিচ্ছে, যা অঞ্চলের ২,৭০০‑এরও বেশি জাপানি পার্টস প্রস্তুতকারকের সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনের অটোমোবাইল নির্মাতারা থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশে নতুন কারখানা স্থাপন ও বিদ্যমান কারখানা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইভি মডেল চালু করে দ্রুত বাজারে প্রবেশ করছে। এই কৌশল স্থানীয় ভোক্তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি আগ্রহকে ত্বরান্বিত করেছে এবং জাপানি ব্র্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী পেট্রোল ও ডিজেল গাড়ির বিক্রয়কে চাপের মুখে ফেলেছে।
থাইল্যান্ডে উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত সরাসরি স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর প্রভাব ফেলবে, যেখানে জাপানি অংশীদারদের সংখ্যা ২,৭০০‑এরও বেশি। উৎপাদন হ্রাসের ফলে এই অংশীদারদের অর্ডার কমে যাওয়া, কর্মসংস্থান হ্রাস এবং আয় হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ছে।
থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট গাড়ি বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ দখল করে, তবে প্রথম দশ মাসে নয়টি জাপানি নির্মাতার সম্মিলিত শেয়ার ৬৯.৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬.৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। এই পতন পূর্বের দশকের ৮০‑৯০ শতাংশের শীর্ষ শেয়ার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নামেছে।
২০১০-এর দশকে জাপানি গাড়ি নির্মাতারা এই অঞ্চলে ৮০‑৯০ শতাংশের উচ্চ শেয়ার বজায় রাখত, তবে ২০২৩ সালে তা ৭৭.৮ শতাংশে নেমে আসে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ শেয়ার ৭০ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে, যা জাপানি গাড়ি শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
ইন্দোনেশিয়া, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গাড়ি বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ ভাগ করে, সেখানে জাপানি নির্মাতাদের শেয়ার ২০২৪ সালে ৯০ শতাংশের নিচে নেমে যায় এবং ২০২৫ সালের প্রথম দশ মাসে ৮২.৯ শতাংশে হ্রাস পায়। এই প্রবণতা দেখায় যে চীনা ও স্থানীয় ব্র্যান্ডের প্রতিযোগিতা ইন্দোনেশিয়াতেও তীব্রতর হচ্ছে।
ভিয়েতনামে জাপানি ও স্থানীয় গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়ে উঠেছে, যদিও সুনির্দিষ্ট শেয়ার সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় বাজারে চীনা গাড়ির প্রবেশ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির নীতি পরিবর্তন জাপানি ব্র্যান্ডের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
থাইল্যান্ড আন্তর্জাতিক মোটর এক্সপোতে টয়োটা মোটর কর্পোরেশন হিলাক্স পিকআপের সর্বশেষ সংস্করণ উপস্থাপন করে। এই মডেলটি দশ বছর পর প্রথম পূর্ণ রিফ্রেশ পেয়েছে, যেখানে ডিজেল ইঞ্জিনের জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন বৈদ্যুতিক সংস্করণ যুক্ত করা হয়েছে। অর্ডার গ্রহণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ডে পিকআপ ট্রাককে “জাতীয় গাড়ি” হিসেবে গণ্য করা হয় এবং হিলাক্স, যা মূলত দেশে উৎপাদিত, দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে। এই মডেলের আপডেটেড সংস্করণ বাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষত যখন ভোক্তারা ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
টয়োটা মোটর থাইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নোরিয়াকি ইয়ামাশিতা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করতে বিক্রয় বাড়াতে হবে”। তার এই মন্তব্য জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের বর্তমান কৌশলকে স্পষ্ট করে, যা বাজার শেয়ার পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় অংশীদারদের সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, চীনা গাড়ি নির্মাতাদের আক্রমণাত্মক সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির দ্রুত গ্রহণ জাপানি ব্র্যান্ডের শেয়ারকে হ্রাস করছে, বিশেষত থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো মূল বাজারে। উৎপাদন কমানো, নতুন মডেল চালু করা এবং বিক্রয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা জাপানি কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর চাপ, অংশীদারদের আয় হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সমস্যার সম্ভাবনা অব্যাহত রয়ে যাবে, যা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নির্ধারণে মূল বিষয় হবে।



