ভোলা জেলায় অটোচালককে লক্ষ্য করে করা ছিনতাই-হত্যা মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন ও দুই সহ-আসামি গ্রেফতার হয়েছে। ঘটনাটি ৩০ ডিসেম্বর রাত ৮:৩০ টার দিকে চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড থেকে লালমোহনের গজারিয়া বাজারে যাওয়ার পথে ঘটেছিল।
অটোচালক আবু বকর সিদ্দিককে কুচুয়াখালী এলাকার কচুয়াখালী গ্রামে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরি কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পরপরই তার পুত্র সুলতান আলী মামলাটি লালমোহন থানা-তে দায়ের করেন, যা চলতি মাসের ১ তারিখে নথিভুক্ত হয়।
ভোলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার জানান, তদন্তের ফলস্বরূপ ৬ জানুয়ারি প্রধান সন্দেহভাজন মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করা হয়। ইব্রাহিমের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুইজন—মোহাম্মদ রাজা (বয়স ৩২) ও কাজী তারেক (বয়স ৩৫)—কে একই দিনে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে একটি ধারালো ছুরি এবং চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই সামগ্রীগুলো হত্যা ঘটনার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
পুলিশের মতে, ইব্রাহিম, রাজা ও তারেক ইন্টার-জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এই গোষ্ঠী পূর্বে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, গুলিবর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ রাজার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার ও মোহাম্মদপুর থানা-তে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মামলা রয়েছে।
হত্যার সময় চালককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পদ্ধতি এবং অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে এটি পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্টভাবে চালিত একটি অপরাধ। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও মোবাইলের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে অপরাধীর নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুলতান আলীর দায়ের করা মামলাটি এখন লালমোহন থানা-র তদন্ত শাখার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মামলাটি দ্রুত আদালতে পাঠিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের জেলখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে। আদালতে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে মামলার শুনানিতে সকল প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়।
পুলিশ সুপারভাইজার কাওসার উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃতদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ইন্টার-জেলা ডাকাত গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করে তাদেরও গ্রেফতার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে রাস্তায় অটোচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
অপরাধের শিকার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিকারের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
মামলাটি বর্তমানে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলবে।



