লন্ডন ও ইউরোপের অন্যান্য রাজধানী এই সপ্তাহে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ের মুখোমুখি হয়েছে: ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান। উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের অপ্রত্যাশিততা ইউরোপীয় নেতাদের কৌশল নির্ধারণে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
ওয়াশিংটন থেকে ইউরোপের প্রতি অবিশ্বাসের ঢেউ বাড়ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এই সন্দেহের পটভূমিতে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে, ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের পরিকল্পনাকে অযৌক্তিক ও বিপর্যয়কর বলে প্রকাশ করেছে। সাতজন ইউরোপীয় নেতা, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যের লিডার স্যার কীয়ার স্টারমার অন্তর্ভুক্ত, একত্রে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে এই অবস্থানকে জোর দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের হাতে থাকা উচিত এবং কোনো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ অপ্রয়োজনীয়। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
ইউক্রেনের বিষয়েও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি গড়ে তোলার অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপের দৃষ্টিতে, ইউক্রেনে স্থিতিশীলতা অর্জন না করা পর্যন্ত কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না, এবং এই শর্তটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দুইজন প্রতিনিধি, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার, প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন। এই উপস্থিতি প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের ইউরোপীয় নিরাপত্তা আলোচনায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় নীতি পরিবর্তনের সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। ট্রাম্পের দলীয় সদস্যদের প্যারিসে উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় বেশি সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয় এবং ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা শক্তিশালী করার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
তবে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য পরিকল্পনা করা কঠিন করে তুলেছে। প্রতিদিনের মতোই নীতি পরিবর্তনের অগ্রগতি বা পিছিয়ে যাওয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া কঠিন, যা ইউরোপীয় কূটনীতিকদের কৌশলগত পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।
ভবিষ্যতে ইউরোপের জন্য দুটি মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে: গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে কী ধরনের আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলা হবে, এবং ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কীভাবে স্থিতিশীল করা যাবে। উভয় ক্ষেত্রেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত কৌশল গড়ে তুলতে হবে।
সারসংক্ষেপে, গ্রিনল্যান্ড ও ইউক্রেনের বিষয়ক সাম্প্রতিক উন্নয়নগুলো ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিলতা ও অস্থিরতা প্রকাশ করে। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের মুখে ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তার অস্থিরতা মোকাবেলায় স্বতন্ত্র নীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জই আগামী মাসে ইউরোপীয় কূটনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



